ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁওয়ে একটি বাড়িতে ঢুকে এক বৃদ্ধার হাত-মুখ বেঁধে ডাকাতির অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁর মেয়েকে চাপাতি ধরে জিম্মি করা হয়। ডাকাতেরা স্বর্ণালংকার, নগদ টাকাসহ প্রায় সাড়ে ১০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের।
গতকাল বুধবার দিবাগত ভোররাত ৪টার দিকে উপজেলার টাংগাব ইউনিয়নের বারইহাটি গ্রামের বটতলা এলাকায় আজিজুল হকের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, আজিজুল হক পল্লী বিদ্যুতে চাকরি করেন। তাঁর কর্মস্থল কিশোরগঞ্জে। ঘটনার সময় তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় ছিলেন। বাড়িতে ছিলেন তাঁর ৭০ বছর বয়সী মা জোয়েদা খাতুন, বোন আম্বিয়া খাতুন ও ভাগনি তাসলিমা খাতুন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, রাত ৪টার দিকে তিন থেকে চারজন ডাকাত সদস্য বাড়ির সদর দরজার তিনটি তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। এ সময় আরও কয়েকজন বাইরে পাহারায় ছিলেন। ঘরে ঢুকেই ডাকাতেরা জোয়েদা খাতুনের মুখ ও হাত কাপড় দিয়ে বেঁধে ফেলে। তাঁর মেয়ে আম্বিয়া খাতুনের গলায় চাপাতি ধরে তাঁকে জিম্মি করা হয়।
পরে ডাকাতেরা বাড়ির তিনটি কক্ষের আলমারি ও ওয়ার্ডরোবের তালা ভেঙে মালামাল তছনছ করে। তারা তিন ভরি স্বর্ণালংকার, ছয় ভরি রুপার অলংকার, জমি কেনার জন্য রাখা তিন লাখ টাকা, মোবাইল ফোন, কাপড়চোপড়সহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায়। পরিবারের হিসাব অনুযায়ী, লুট হওয়া মালামালের মূল্য প্রায় সাড়ে ১০ লাখ টাকা।
আজিজুল হক বলেন, ‘খবর পেয়ে বাড়িতে এসে দেখতে পাই, ডাকাতেরা ঘরের সবকিছু তছনছ করে নিয়ে গেছে। তারা আমার মা-বোনের কাছে বারবার জমি কেনার টাকা কোথায় রাখা হয়েছে, তা জানতে চাইছিল। টাকা কোথায় রাখা হয়েছে, জানাতে দেরি হওয়ায় মাকে মারধরও করা হয়।’
এ বিষয়ে পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ভুক্তভোগী পরিবার এখনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।