ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার অলহরী ব্রিজ থেকে আমলীতলা বাজার পর্যন্ত সড়ক উন্নয়নকাজ শেষের পথে। তবে মাওলানা জামাল উদ্দিনের বাড়িসংলগ্ন অংশে নদীভাঙনের ঝুঁকি থাকায় সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা ছাড়াই শেষ হচ্ছে নির্মাণকাজ।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, মঠবাড়ী ইউনিয়নের অলহরী ঘাটপাড় থেকে আমলীতলা বাজার পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিটার সড়ক উন্নয়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৮ হাজার ৩৩৯ টাকা। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া প্রকল্পটির কাজ ২০২৬ সালের মে মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল। প্রকল্পটির বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সরকার এন্টারপ্রাইজ।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের অধিকাংশ কাজ শেষ। বর্তমানে চলছে কার্পেটিং; সবকিছু ঠিক থাকলে এক-দুই দিনের মধ্যে কাজ শেষ হতে পারে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ অংশে সড়কের প্রান্ত থেকে মাত্র এক থেকে দেড় ফুট দূরে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গত বর্ষায় ওই অংশের প্রায় পাঁচ ফুট নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে এবং ১০ থেকে ১৫ মিটার এলাকাজুড়ে মাটি সরে গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নির্মাণকাজ শুরুর সময় প্রকৌশলীর অনুরোধে পাশের জমির মালিকেরা কয়েক ফুট জমি ছেড়ে দেন। বিনিময়ে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা বাবু বলেন, ‘এল্লা রাস্তা তো ভাঙা গেল। রাস্তা যে হরতাছে তারা কি দেখছে না গো? আগে রাস্তা আছিন না, এহন রাস্তা অইতাছে। কিন্তু অইলে লাভ কি? রাস্তা তো থাকতো না।’
জমির মালিক এবিএস কামাল আহমেদ বলেন, ‘আমরা উনার (প্রকৌশলী) অনুরোধে কয়েক ফুট জায়গা ছেড়ে দেই। উনি ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন বলে আশ্বাস দেন। তবে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হলো না।’
স্থানীয় তাজুল ইসলাম বলেন, ‘গাইড ওয়াল নির্মাণ করে ভাঙন ঠেকানোর ব্যবস্থা না নিলে সামান্য বৃষ্টিতেই নদীগর্ভে চলে যাবে রাস্তাটি।’ সাবেক ইউপি সদস্য নজরুল ইসলামও সড়কটি রক্ষায় দ্রুত টেকসই ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেন বলেন, ‘নদীভাঙনের জন্য নতুন নির্মিত এই রাস্তাটি ঝুঁকিতে রয়েছে। রাস্তাটি রক্ষার্থে নদীভাঙন রোধে পদক্ষেপ নিতে আমি ছবিসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাব।’
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার সড়কটি নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ায় উদ্বিগ্ন এলাকাবাসী। তাঁদের দাবি, সরকারি অর্থে নির্মিত সড়কটি রক্ষায় দ্রুত কার্যকর সুরক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।