হোম > সারা দেশ > ময়মনসিংহ

চাঁদাবাজির প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে ইজিবাইকের চালকদের বিক্ষোভ

হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ধারা-ধুরাইল-নালিতাবাড়ী সড়কে অবরোধ কর্মসূচি। ছবি: আজকের পত্রিকা

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে ইজিবাইক চালকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় ও ‘সিরিয়াল প্রথা’র নামে হয়রানির প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন চালকেরা।

আজ সোমবার দুপুরে উপজেলার ধারা এলাকার আশ্রমপাড়া ও ধুরাইল বাজারসংলগ্ন ধারা-ধুরাইল-নালিতাবাড়ী সড়কে প্রায় দুই ঘণ্টা এ অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়।

এ সময় বিক্ষোভকারীরা সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এতে সড়কের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। কেউ কেউ শিশু ও মালামাল নিয়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ধারা ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রাম, ধুরাইল ইউনিয়ন, ফুলপুর উপজেলার সিংহেশ্বর ইউনিয়ন এবং নালিতাবাড়ী উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষ নিয়মিত এ সড়ক ব্যবহার করেন। এসব এলাকার মানুষের যাতায়াতে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক অন্যতম প্রধান বাহন।

ইজিবাইক চালকদের অভিযোগ, সম্প্রতি নাঈম, মঞ্জুরুল মনিরসহ কয়েকজনের নেতৃত্বে একটি সংগঠনের নাম ব্যবহার করে তাঁদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। ‘সিরিয়াল’ অনুযায়ী ইজিবাইক না চালালে প্রতি যাত্রীর বিপরীতে ২০ টাকা এবং মাসে ৫০০ টাকা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের। চাঁদা না দিলে সড়কে ইজিবাইক চালাতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি চালকদের।

চালকদের আরও অভিযোগ, জোর করে সিরিয়াল মেনে চলতে গিয়ে তাঁরা পর্যাপ্ত ট্রিপ দিতে পারছেন না। এতে আয় কমে গিয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন তাঁরা।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আতিকুল ইসলাম, কালাম ও সাইদুল ইসলাম বলেন, সারা দিন ইজিবাইক চালিয়ে যে আয় হয়, তার একটি বড় অংশ চাঁদা হিসেবে দিতে হলে পরিবার নিয়ে চলা কঠিন হয়ে পড়বে। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যকে জানানো হলেও এখনো সমাধান হয়নি বলে দাবি করেন তাঁরা।

অভিযোগের বিষয়ে নাঈম ও মঞ্জুরুল মনিরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জালাল উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চালকদের সঙ্গে কথা বলেছে। পরে তাৎক্ষণিকভাবে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। চালকদের দাবিগুলো নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।