হোম > সারা দেশ > মৌলভীবাজার

চা-পাতা চুরিতে বাধা দেওয়ায় পাহারাদারের ওপর হামলা, প্রতিবাদে বিক্ষোভ শ্রমিকদের

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় কাঁচা চা পাতা চুরিতে বাধা দেওয়ায় চোরচক্রের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন চা বাগানের এক পাহারাদার। এ ঘটনার প্রতিবাদে ও হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বাগান এলাকায় বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা করেছেন ক্ষুব্ধ চা শ্রমিকেরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় কাঁচা চা পাতা চুরিতে বাধা দেওয়ায় চোরচক্রের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন চা বাগানের এক পাহারাদার। এ ঘটনার প্রতিবাদে ও হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বাগান এলাকায় বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা করেছেন ক্ষুব্ধ চা শ্রমিকেরা।

আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার শমশেরনগর ইউনিয়নের ফাঁড়ি দেওছড়া চা বাগানে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

আহত পাহারাদারের নাম রামরাজ গৌড় রাজু (৪৫)। তাঁকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ক্যামেলিয়া হাসপাতালে নেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আজ ভোরে পার্শ্ববর্তী বস্তির লোকমান মিয়া, তাহির মিয়া, সালমান মিয়াসহ একদল চোর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দেওছড়া চা বাগানে প্রবেশ করে। তারা টিলা থেকে অবৈধভাবে কাঁচা চা পাতা তুলে কয়েকটি বস্তায় ভর্তি করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। এ সময় বাগানের পাহারাদার রামরাজ গৌড় তাঁদের বাধা দিলে চোরচক্রটি তাঁকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা করে আহত করে।

হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে আজ সকাল থেকেই দেওছড়া চা বাগানে বিক্ষোভ শুরু করেন চা শ্রমিকেরা। পরে দেওছড়া কালীমন্দিরসংলগ্ন মাঠে বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি শংকর রবিদাসের সভাপতিত্বে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

পঞ্চায়েত সম্পাদক লছমি মাদ্রাজির পরিচালনায় সভায় বক্তব্য দেন শমশেরনগর চা বাগান ব্যবস্থাপক কামরুল জামান, ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ইয়াকুব মিয়া, মোহনলাল রবিদাস, নমিতা সিং, বাগান পঞ্চায়েত সম্পাদক লক্ষ্মীনারায়ণ রবিদাস, দিলিপ নাইডু প্রমুখ।

প্রতিবাদ সভায় বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, চা পাতা চোরচক্র ও হামলাকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। না হলে চা বাগান দিয়ে যাওয়া বস্তির রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হবে। এক সপ্তাহের মধ্যে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।

ইউপি সদস্য ইয়াকুব মিয়াসহ স্থানীয় চা শ্রমিকেরা বলেন, ‘একটি চক্র প্রতিনিয়ত টিলা থেকে কাঁচা চা পাতা কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এতে আমাদের নারী শ্রমিকেরা টিলায় গিয়ে পাতা না পেয়ে খালি হাতে ফিরে আসছেন এবং দৈনিক নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ করতে পারছেন না। এতে চা শিল্প ও শ্রমিক দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

বিষয়টি নিশ্চিত করে শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রুহুল আমিন জানান, খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। এ ঘটনায় বাগান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের আইনি প্রক্রিয়া চলছে।