হোম > সারা দেশ > মৌলভীবাজার

মৌলভীবাজারের খাসিয়া পুঞ্জিতে ৮ হাজার পানগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় পানজুমের ৮ হাজার পানগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার নার্সারি খাসিয়া পুঞ্জির ৯টি পরিবারের পানজুমের ৮ হাজার পানগাছ দুর্বৃত্তরা কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল বুধবার রাতে উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের নার্সারি খাসিয়া পুঞ্জিতে এ ঘটনা ঘটে।

যেসব পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাঁরা হলেন, লিকিন খংপ্ডা, পাইলা পতাম, নাসরিন পতাম, মান্রী জনি পতাম, নিস্তার পাটুয়াট, শিউলি আজিম, টিউনি আজিম, ডিমান পতাম, মাসার তংপ।

ভুক্তভোগীরা বলেন, আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। রাতের আঁধারে ৯টি পরিবারের প্রায় ৮ হাজার পানগাছ কেটে ফেলা হয়েছে। আমরা এখন কোথায় যাব, কি করে চলব তা জানি না।

জুম মালিক একজন নাসরিন পতাম বলেন, কে বা কারা রাতের আঁধারে এই কাজ করেছে জানি না। তবে, যে বা যারা এই কাজ করেছে তারা নিশ্চিত জানে, খাসিয়াদের শেষ করার সহজ কৌশল হলো পান গাছ কেটে ফেলা। খাসিয়ারা সারা দিন জুমে কাজ করে জেনেই রাতের আঁধারে জুমের গাছগুলো কেটে দেওয়া হয়েছে।

নার্সারি পুঞ্জির মান্রী জনি পতাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমরা নিরীহ মানুষ। পান চাষ করে সংসার চালাই। একটা গাছ ৪ বছর যত্ন করার পর পান পাওয়া যায়। অথচ দায়ের এক কোপে ৪ বছরের পরিশ্রম ও খরচ সব শেষ হয়ে যায়। পুঞ্জির নয়টি পরিবারের জীবিকা নির্বাহের পথ নিমেষে ধ্বংস হয়ে গেল। আমাদের প্রায় ৮ হাজার পান গাছ কাটা হয়েছে। আমরা খুব ভয়ে আছি পান গাছ আমাদের একমাত্র আয়ের উৎস। আজ প্রশাসন থেকে সরেজমিন তদন্ত করতে লোক এসেছে, সঠিক তদন্ত করে দুষ্কৃতকারীদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছি।

কুবরাজ আন্তপুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফ্লোরা বাবলী তালাং বলেন, ‘আমাদের হয়রানির শেষ নেই। কে দেবে আমাদের জীবিকার নিরাপত্তা? এ উত্তর আমার জানা নেই। কেন খাসিয়া আদিবাসীদের জীবিকা বারবার হামলার শিকার হবে? দুষ্কৃতকারীদের বিচার হবে কি না সন্দেহ।’

স্থানীয় খাসিয়াদের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না নিলে এমন ঘটনা আবারও ঘটতে পারে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পুঞ্জিবাসীর পুনর্বাসনের জন্য প্রশাসনের জরুরি সহায়তাও কামনা করেছেন তাঁরা।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তাঁরা আসার পর বিস্তারিত জানা যাবে।