হোম > সারা দেশ > মেহেরপুর

মুজিবনগর সীমান্তের শূন্যরেখায় শেষবার মায়ের মুখ দেখলেন মেয়ে

গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধি

মেহেরপুরের মুজিবনগর সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের মানবিক উদ্যোগে শেষবারের মতো মৃত মায়ের মুখ দেখলেন বাংলাদেশে বসবাসরত মেয়ে হাফিজা খাতুন। ছবি: আজকের পত্রিকা

মেহেরপুরের মুজিবনগর সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের মানবিক উদ্যোগে শেষবারের মতো মৃত মায়ের মুখ দেখলেন বাংলাদেশে বসবাসরত মেয়ে হাফিজা খাতুন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে সীমান্তের শূন্যরেখায় মায়ের মরদেহ দেখার সুযোগ পান তিনি। এ সময় দুই দেশের স্বজনদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সীমান্তের ১০৯ নম্বর প্রধান পিলারের কাছাকাছি নাজিরা পশ্চিমপাড়া এলাকায় মরদেহ দেখানোর ব্যবস্থা করে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী। এ উদ্যোগের জন্য বিজিবি ও বিএসএফের সদস্যদের প্রশংসা করেন মৃতের স্বজনেরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে শেষবারের মতো তাঁর মুখ দেখার আকুতি জানান মুজিবনগর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামে বসবাসরত হাফিজা খাতুন। অন্যদিকে, ভারতে থাকা স্বজনেরাও বিএসএফের কাছে এ বিষয়ে আবেদন করেন। পরে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে আলোচনার পর শূন্যরেখায় মরদেহ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়।

মুজিবনগরের নাজিরাকোনা বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার হাবিলদার মো. শরিফুল ইসলাম জানান, পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চাপড়া থানার গোবিন্দপুর গ্রামের মোছা. জায়রা খাতুন (৭০) নিজ বাড়িতে অসুস্থতাজনিত কারণে মারা যান। তাঁর মেয়ে হাফিজা খাতুন বাংলাদেশে বসবাস করেন। মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি শেষবারের মতো মায়ের মুখ দেখতে চেয়েছিলেন। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সমন্বয়ে তাঁর সেই আকুতি পূরণের ব্যবস্থা করা হয়।

এ সময় বাংলাদেশের পক্ষে নাজিরাকোনা বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার হাবিলদার মো. শরিফুল ইসলামসহ বিজিবির পাঁচ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। ভারতের পক্ষে ছিলেন বিএসএফের পাথরঘাটা ক্যাম্পের ইন্সপেক্টর এস কে রয়সহ পাঁচ সদস্য।

মৃতের স্বজনেরা জানান, দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এই মানবিক উদ্যোগ প্রশংসনীয়। সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি মানবিক পরিস্থিতিতে এমন সহানুভূতিশীল ভূমিকা দুই দেশের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির সম্পর্ক আরও দৃঢ় করে। সীমান্তের শূন্যরেখায় মায়ের শেষ দর্শনের এই ঘটনা যেন মনে করিয়ে দেয়—রাষ্ট্রের সীমানা আলাদা হতে পারে, কিন্তু মানবিকতার কোনো সীমানা নেই।