হোম > সারা দেশ > কুষ্টিয়া

কুষ্টিয়ায় আধিপত্য বিস্তারে দুই পক্ষের সংঘর্ষে বৃদ্ধ নিহত, আহত ১০

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর ইউনিয়নের খয়েরপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধের জেরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর ইউনিয়নের খয়েরপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আবদুল হালিম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে খয়েরপুর গ্রামে মান্নান-বকুল গ্রুপ ও ইউসুফ মেম্বার-মেহেদী গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। নিহত আবদুল হালিম ওই গ্রামের মৃত কালাম সর্দারের ছেলে। তিনি ইউসুফ মেম্বারের সমর্থক ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, মসজিদের ব্যাটারি চুরি ও এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। তিন দিন ধরে এলাকাটি উত্তপ্ত ছিল এবং কয়েকজনকে আটকে রাখার ঘটনাও ঘটে। আজ ভোরে চাপাইগাছি বিলের পাশে দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। এ সময় আবদুল হালিম বাড়ি থেকে বের হলে প্রতিপক্ষের লোকজনের একটি ছাদ থেকে ছোড়া বল্লম (ফালা) এসে তাঁর গলায় বিদ্ধ হয়। পরে দুই গ্রুপের লোকেরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন।

গুরুতর আহত অবস্থায় আবদুল হালিমকে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ইকবাল হোসেন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই আবদুল হালিমের মৃত্যু হয়। আহত অন্যদের মধ্যে একজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহত হালিমের ছেলে হাবিবুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘আগের বিরোধ স্থানীয়ভাবে মীমাংসা হলেও তারা আমাদের লোকজনকে হুমকি দিচ্ছিল। বকুলের নির্দেশে মান্নান ও খালেকসহ কয়েকজন আমার বাবাকে লক্ষ্য করে ফালা মেরে হত্যা করেছে।’

খবর পেয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানা ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে খয়েরপুর গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ ও এসআরবির (পূর্ব নাম র‍্যাব) টিম মোতায়েন রয়েছে।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, মান্নান-বকুল গ্রুপের বকুলকে আটক করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মামলা হয়নি।

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ বলেন, সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এ সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।