বাউলসম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা। এ আয়োজন মাদকমুক্ত রাখতে তৎপর প্রশাসন। তারই অংশ হিসেবে লালন আখড়াবাড়ির মেলার মাঠে অভিযান চালিয়ে গাঁজা সেবনের প্রায় দুই হাজার কলকে জব্দ করেছে পুলিশ। জব্দ করা কলকেগুলোর মূল্য দুই লাখ টাকার বেশি।
আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে এ অভিযান চালানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আগামী শনিবার (১৭ অক্টোবর) থেকে লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসের অনুষ্ঠান শুরু হবে। এ আয়োজন ঘিরে গত ১১ অক্টোবর থেকে আখড়াবাড়ি এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হচ্ছে। উৎসব চলাকালে মাদক সেবন, ক্রয়-বিক্রয় ও সংশ্লিষ্ট অপরাধ প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও লালনভক্তদের অভিযোগ, প্রতিবছর উৎসবের সময় মেলার মাঠের বিভিন্ন স্থানে মাদক সেবন ও ক্রয়-বিক্রয় হয়। এতে ফকির লালনের দর্শন ও মানবতাবাদী চেতনার সঙ্গে উৎসবের পরিবেশের সাংঘর্ষিক চিত্র তৈরি হয়।
ছেঁউড়িয়া এলাকার ব্যবসায়ী সেলিম বলেন, ‘সারা দেশের মানুষের মধ্যে একটা ধারণা তৈরি হয়েছে, লালন মেলা মানেই মাদকের আড্ডা। প্রতিবছর আলোচনা মঞ্চের আশপাশে রাতভর মাদক সেবন ও ক্রয়-বিক্রয় দেখা যায়। এটা খুবই লজ্জাজনক। আমরা চাই, এবার মেলায় যেন মাদক না থাকে।’
চুয়াডাঙ্গা থেকে প্রায় ৩০ বছর ধরে লালন আখড়াবাড়িতে আসেন শান্ত ফকির। তিনি বলেন, ‘গাঁজার সঙ্গে ফকির লালনের কোনো সম্পর্ক নেই। প্রকৃত সাধু-ভক্তরা মাদক সেবনের সঙ্গে যুক্ত নন। আমরাও চাই, মাদকমুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠান হোক।’ একই দাবি মানিকগঞ্জ থেকে আসা ফজলুল হকের। তাঁরও বক্তব্য, গাঁজার সঙ্গে ফকির লালনের কোনো সম্পর্ক নেই।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, ‘এবার লালন উৎসব মাদকমুক্ত রাখতে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় নিয়মিত অভিযান চলছে। আজ দুপুরে প্রায় দুই হাজার পিস গাঁজা সেবনের কলকে জব্দ করা হয়েছে। মাদক প্রতিরোধে প্রতিদিনই এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
লালন একাডেমির সভাপতি ও কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন হাসান বলেন, ‘ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে এবার মাদকমুক্ত পরিবেশে উৎসব আয়োজনের লক্ষ্যে পুলিশ ও প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।’