সকালে গাছটি কাটার জন্য ১৮ জন শ্রমিক প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। কিন্তু কুঠারের স্পর্শ ছাড়াই গভীর রাতে উপড়ে পড়ল বিশাল এক বটগাছ। এতে একটি পাকা বাড়িসহ কয়েকটি টিনের ঘর ও চারটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে। চাল ও বিদ্যুতের তারের নিচে চাপা পড়ে এক নারী আহত হয়েছেন। এ ছাড়া পুরো এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রায় ১৫০টি পরিবার।
গতকাল মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের এলঙ্গী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলঙ্গী এলাকায় অতীতে একটি শতবর্ষী শেওড়া গাছ ছিল। লোকমুখে প্রচলিত নানা লোকবিশ্বাস ও অলৌকিক ধারণার কারণে স্থানীয়রা গাছটির গোড়ায় নিয়মিত পূজা ও মানত করতেন। ১৯৯৮ সালের বন্যায় শেওড়া গাছটি মারা গেলে ওই গোড়া থেকেই জন্ম নেয় একটি বটগাছ। বিগত প্রায় তিন দশকে সেটি বিশাল মহীরুহে পরিণত হয়। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় গাছটি নিয়ে বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।
পরে স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যুৎ বিভাগের অনুমতি নিয়ে আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে গাছটি কাটার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তবে তার আগেই রাতে গাছটি উপড়ে পড়ে।
আজ দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সিসি ঢালাই সড়কের পাশে স্থানীয় ভ্যানচালক শহীদ শেখের বাড়ির ওপর বিশাল বটগাছটি উপড়ে পড়ে আছে। গাছটির ভারে একটি পাকা বাড়ির অংশ ও টিনের ঘর চুরমার হয়ে গেছে। ভেঙে গেছে চারটি বৈদ্যুতিক খুঁটি এবং ছিঁড়ে পড়া তারে তৈরি হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি।
দুর্ঘটনায় আহত গৃহবধূ মিনি খাতুন বলেন, ‘রাতে ঘুমিয়েছিলাম। কোনো বাতাস বা বৃষ্টি ছিল না। রাত ৩টার দিকে বিকট মড়মড় শব্দে ঘুম ভাঙলে চোখের পলকে ঘরের চাল ও বিদ্যুতের তার গায়ের ওপর এসে পড়ে। পরে প্রতিবেশীরা এসে উদ্ধার করেন।’
ক্ষতিগ্রস্ত ভ্যানচালক শহীদ শেখ বলেন, ‘সকালে গাছ কাটার কথা থাকলেও রাতেই সব শেষ হয়ে গেল। স্ত্রী আহত হয়েছে, ঘরবাড়ি চুরমার হয়ে গেছে। দিন আনি দিন খাই, ঘর মেরামত করার মতো সামর্থ্য আমার নেই। সরকারি সাহায্য না পেলে পরিবার নিয়ে পথে বসতে হবে।’
স্থানীয় বাসিন্দা নয়ন শেখ জানান, চারটি খুঁটি ভেঙে পুরো এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে থাকা খাবার নষ্ট হচ্ছে এবং দেখা দিয়েছে তীব্র সুপেয় পানির সংকট।
বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার বিষয়ে কুমারখালী ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) আবাসিক প্রকৌশলী মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘গাছ উপড়ে পড়ে চারটি খুঁটি ভেঙে অন্তত ১৫০টি পরিবার বিদ্যুৎহীন রয়েছে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। উপড়ে পড়া গাছটি অপসারণের পর জরুরি ভিত্তিতে লাইন পুনঃস্থাপনের কাজ শুরু হবে।’
কুমারখালী পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার জানান, বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। পৌরসভার পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।