হোম > সারা দেশ > কুষ্টিয়া

দৌলতপুরে দুই মাসে ৫৪ জন অ্যানথ্রাক্স রোগী শনাক্ত

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ায় সারা বছরই কমবেশি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হচ্ছে। তবে জেলার অন্যান্য উপজেলার তুলনায় সীমান্তবর্তী দৌলতপুর উপজেলায় এ রোগের সংক্রমণ বেশি। গত আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই দুই মাসে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫৪ জন অ্যানথ্রাক্স রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে জেলাজুড়ে আক্রান্ত রোগীর সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কাছে নেই।

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, আগস্টে ৩০ জন এবং সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত আরও ২৪ জন অ্যানথ্রাক্স রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে নারীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। তবে এখন পর্যন্ত এ রোগে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। আক্রান্তদের অধিকাংশই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন।

উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের বাগোয়ান গ্রামের বাসিন্দা নাসির হোসেন (৩৭) ২১ সেপ্টেম্বর এবং একই ইউনিয়নের সোহেল হোসেন (৪০) ১৬ সেপ্টেম্বর অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। তাঁরা জানান, পুরোপুরি সুস্থ না হলেও নিয়মিত ওষুধ সেবনে তাঁদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন বলেন, ‘দৌলতপুরে শুধু সাম্প্রতিক সময়েই নয়, সারা বছরই অ্যানথ্রাক্স রোগী পাওয়া যায়। আক্রান্তদের বেশির ভাগই বহির্বিভাগে নিয়মিত চিকিৎসা নিয়ে সেরে উঠছেন।’

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, সামগ্রিকভাবে জেলায় কোনো মহামারি পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। জেলা পর্যায়ে রোগীদের নির্দিষ্ট কোনো পূর্ণাঙ্গ তালিকা না থাকলেও দৌলতপুরে সংক্রমণ কিছুটা বেশি। এ ছাড়া মিরপুর, ভেড়ামারা ও কুমারখালী থেকেও মাঝেমধ্যে বিচ্ছিন্ন সংক্রমণের তথ্য পাওয়া যায়।

তবে জেলার ভেড়ামারা, মিরপুর ও কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কয়েক মাসে সেখানে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত কোনো রোগী পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যানথ্রাক্স মূলত গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার মতো তৃণভোজী প্রাণীর রোগ। আক্রান্ত পশু জবাই, মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ কিংবা অসুস্থ পশুর সরাসরি সংস্পর্শে এলে মানুষের শরীরে এ রোগের জীবাণু ছড়াতে পারে।

দৌলতপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব বলেন, উপজেলায় তিন লাখের বেশি গবাদিপশু রয়েছে। অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘কিছু ক্ষেত্রে গোপনে অসুস্থ পশু জবাই করে মাংস বিক্রি করার প্রবণতা দেখা যায়, যা সংক্রমণের মূল কারণ। নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের সচেতনতা না বাড়লে এটি পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন।’

কুষ্টিয়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আল মামুন হোসেন মণ্ডল বলেন, জেলায় আনুমানিক পাঁচ থেকে ছয় লাখ গরু-মহিষ এবং প্রায় ১০ লাখ ছাগল-ভেড়া পালন করা হয়। অ্যানথ্রাক্সসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে পশুকে নিয়মিত টিকা দেওয়া হচ্ছে। অসুস্থ পশু যাতে জবাই করা না হয়, সে বিষয়েও নজরদারি করা হচ্ছে। চলতি বছরে কুষ্টিয়ায় অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত কোনো গবাদিপশুর বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্য তাঁর কাছে নেই।

এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহর সরকারি মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অ্যানথ্রাক্সের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। একই সঙ্গে অসুস্থ বা হঠাৎ মারা যাওয়া গবাদিপশু জবাই ও ওই পশুর মাংস খাওয়া থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।