হোম > সারা দেশ > কুষ্টিয়া

প্রতিমন্ত্রীর কর্মসূচিতে ছাত্রদলের হাতাহাতি, ভিডিও ধারণ করায় লাঞ্ছিত ৩ সাংবাদিক

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

সাংবাদিকের ওপর আঙুল উঁচিয়ে কথা বলছেন ছাত্রদলের এক নেতা। ছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের কর্মসূচি চলাকালে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া দুই সাংবাদিকের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আজ বুধবার দুপুরে উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এর আগে প্রতিমন্ত্রী শহীদ আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত করেন। পরে গড়াই নদের ওপর প্রস্তাবিত শহীদ আবরার ফাহাদ সেতুর নির্মাণের নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কবর জিয়ারত শেষে প্রতিমন্ত্রী গাড়িতে ওঠার সময় অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। এ সময় স্টার নিউজের কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম মোবাইলে ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে কয়েকজন নেতা-কর্মী তাঁর ওপর চড়াও হন। তাঁকে মারধর ও গালিগালাজ করার পাশাপাশি ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ সময় জহুরুল ইসলামের ওপর হামলার দৃশ্য ধারণ করতে গেলে মোহনা টেলিভিশনের কুমারখালী প্রতিনিধি দলের ক্যামেরাম্যান মোমিন ইসলামকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁর মাথায় আঘাত করা এবং মোবাইল কেড়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া সমকালের কুমারখালী উপজেলা প্রতিনিধি নয়নকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

পরে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোজাক্কির হোসেন রাব্বির হস্তক্ষেপে সাংবাদিকদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া দুটি ফোন ফেরত দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রী গাড়িতে ওঠার পরপরই ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। আমি ভিডিও করায় তারা চড়াও হয়ে মারধর করে এবং ফোন ছিনিয়ে নেয়।’

ক্যামেরাম্যান মোমিন ইসলাম বলেন, জহুরুল ইসলামের ওপর হামলার দৃশ্য ধারণ করতে গেলে ছাত্রদলের কর্মীরা তাঁর মাথায় আঘাত করেন এবং মুঠোফোন কেড়ে নেন।

ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে চ্যানেল ২৪-এর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক শরীফ বিশ্বাস বলেন, ‘কোনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বশীল কর্মসূচিতে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের হামলা নজিরবিহীন। অবিলম্বে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে কঠোর সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।’

এ ঘটনায় কুষ্টিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, ‘ছাত্রদলের নিজেদের মধ্যে একটু হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। তবে সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করা ও ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই।’

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোজাক্কির রহমান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ এবং সদস্যসচিব জাকির হোসেন সরকারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন ধরেননি।