কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে একটি ‘পাগলা’ কুকুরের আক্রমণে শিশু ও নারীসহ অন্তত ৪৫ জন আহত হয়েছে। আজ বুধবার সন্ধ্যায় শহরের হলবাজার, আমতলা, ইন্দ্রা মোড়সহ বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় হঠাৎ কুকুরটির আক্রমণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর মাত্র ৪০ মিনিটের মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় ২৫ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে পৌঁছায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কাজ শেষে বাড়ি ফেরা ও রাস্তায় চলাচলকারী পথচারীদের ওপর হঠাৎ হামলে পড়ে কুকুরটি। সামনে যাকে পেয়েছে, তাকেই কামড় কিংবা আঁচড় দিয়ে দ্রুত অন্যদিকে চলে যায়। এতে মুহূর্তের মধ্যে শহরের বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আহত রোকন মিয়া বলেন, ‘হলবাজার এলাকায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। আচমকা পেছন থেকে কুকুরটি এসে হাঁটুতে কামড় বসিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়।’
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা আরিফ নামে এক ব্যক্তি জানান, সন্ধ্যার পর কিছুক্ষণের মধ্যেই একের পর এক আহত মানুষ হাসপাতালে আসতে শুরু করে।
সন্ধ্যায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, কুকুরের কামড় ও আঁচড়ে আহতদের চিকিৎসা দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। আহতদের ক্ষতস্থান দ্রুত সাবান-পানি দিয়ে পরিষ্কার করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কুকুরের আক্রমণের পর প্রথম ৪০ মিনিটেই ২৫ জন চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসে। তাদের মধ্যে ২০ জনকে জলাতঙ্কের প্রতিষেধক (র্যাবিস ভ্যাকসিন) দেওয়া হয়েছে। অন্যদেরও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুবর্ণা লতিফা আহমেদ বলেন, এখন পর্যন্ত ৪৫ জনকে কুকুরে কামড়ানোর খবর পেয়েছি। এর মধ্যে ২৫ জন হাসপাতালে এসেছে। তাদের মধ্যে ২০ জনকে জলাতঙ্কের প্রতিষেধক দেওয়া হয়েছে। আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাভিদ সারওয়ার বলেন, খবর পাওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা ও প্রতিষেধক নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি জননিরাপত্তার স্বার্থে কুকুরটিকে দ্রুত শনাক্ত ও আটক করতে প্রশাসন তৎপরতা চালাচ্ছে।
এদিকে কুকুরটির আক্রমণের ঘটনায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।