কুষ্টিয়ার কুমারখালীর চাপড়া ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের অফিস সহকারী রেজাউল ইসলামের ঘুষ লেনদেনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভিডিওটি নজরে আসার পর তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাঁকে এক সপ্তাহ আগে ওই কার্যালয় থেকে চাঁদপুর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।
ভাইরাল ভিডিওতে রেজাউল ইসলামের হাতে ১০০ টাকার একটি নোট দেখা যায়। নোটিশ জারির খরচের কথা বলে টাকা নেওয়ার বিষয়ে তাঁকে কথা বলতে শোনা যায়।
ভিডিওতে একপর্যায়ে রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘একটা নোটিশ জারি করতে ৪০+৪০, আশি টাকা, আবার এখন গদ লিখে ফেরত দিতে হবে ৪০ টাকা। ১২০ টাকা তো খরচই হয়। আর আপনি দিয়ে যাচ্ছেন ১০০ টাকা, আবার আজেবাজে কথা বলছেন—যে এইটা বাবদে আপনারা খরচ পান। কিডা আমাদের খরচ দেয়।’
ভিডিওতে থাকা এক ব্যক্তি রেজাউল ইসলামকে প্রশ্ন করেন, ‘আমাদের কি এই টাকা দেওয়ার নিয়ম নাকি?’ জবাবে রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘ওইটা এসিল্যান্ডে গিয়ে বলেন গা, নোটিশ জারির জন্য গাড়ি ভাড়া চাই।’
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমিসংক্রান্ত নামজারি, জমাভাগ, খাজনা পরিশোধ কিংবা নোটিশ জারির মতো সাধারণ কাজেও রেজাউল ইসলাম অতিরিক্ত টাকা দাবি করতেন। টাকা না দিলে ফাইল আটকে রেখে হয়রানি করা হতো বলেও তাঁদের অভিযোগ।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে এক ব্যক্তি দাবিকৃত টাকার পরিবর্তে ১০০ টাকা দিলে তাঁর সঙ্গে রেজাউল ইসলামের তর্কাতর্কি হয়। ওই ঘটনার ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার আগেই রেজাউল ইসলাম চাপড়া ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয় থেকে চাঁদপুর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ে বদলি হয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘আমার ভুল হয়েছে। শাস্তি হিসেবে স্যারেরা বদলি করেছেন। আমি আর এমন করব না।’
কুমারখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আপনাদের মতো আজকেই আমাদের নজরে এসেছে ভিডিওটি। নজরে আসার পর ওই অফিস সহকারীর বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া তাঁকে ওই অফিস থেকে এক সপ্তাহ আগেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট তারিখ বা বার এ মুহূর্তে বলতে পারছি না।’