কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ডাবলুর অফিস লক্ষ্য করে গুলি ও ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে শুকুর আলী নামে একজন চা বিক্রেতা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গতকাল শনিবার (৭ মার্চ) রাত ৯টার দিকে উপজেলা শহরের দক্ষিণ রেলগেট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এর আগে বিকেলে বারোমাইল বালুর ঘাটে বালু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কার্যালয়ে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এ সময় পাঁচটি মোটরসাইকেল, একটি পেলোডার, অফিসের চেয়ার-টেবিল, সিসিটিভি ক্যামেরা এবং এসি ভাঙচুর করে তারা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতে আনুমানিক পাঁচজন আগ্নেয়াস্ত্র ও ককটেল নিয়ে অফিসের দিকে এসে উপজেলা যুবদল নেতা ও বালু ব্যবসায়ী উজ্জল স্বর্ণকারকে খুঁজতে থাকেন। এরপর তারা বিএনপি নেতা ডাবলুর অফিস লক্ষ্য করে ৬ থেকে ৭টি গুলি ছোড়ে এবং কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় পাশের চায়ের দোকানি শুকুর আলীর গায়ে গুলি লাগে। এ ছাড়া অফিস-সংলগ্ন আরেকটি দোকানের বেশ কয়েকটি অ্যাকুরিয়াম ভেঙে যায়। হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়।
গুলিতে আহত শুকুর আলীর গলায় ক্ষতস্থান ব্যান্ডেজ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘নিজ চায়ের দোকানে বসেছিলাম। হঠাৎ ছোট একটা গুলি এসে আমার গলায় লাগে। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছি, এখন কিছুটা সুস্থ আছি।’ তিনি জানান, কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন তিনি। হামলাকারীদের কাউকে চিনতে পারেননি তিনি।
পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ডাবলু বলেন, ‘আমার অফিসে দুর্বৃত্তরা গুলি ও ককটেল ছুড়েছে। এতে চা দোকানি শুকুর আলী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।’
স্থানীয় ব্যবসায়ী আবুল হোসেন জানান, শনিবার সারা দিনই বালুঘাট নিয়ে উত্তেজনা ছিল। সকালে উপজেলার বাহাদুরপুরে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা যায়। দুপুরের পর বাহিরচর ইউনিয়নের টিকটিকি পাড়ার বালুঘাটে এক পক্ষ অন্য পক্ষের অফিস ভাঙচুর করে। পেলোডারসহ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। তিনি মনে করেন, রাতের এই হামলা আগের ঘটনার প্রতিশোধমূলক প্রতিক্রিয়া।
ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, দক্ষিণ রেলগেট এলাকায় দুর্বৃত্তরা গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। একজন আহত হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে। দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ কাজ করছে।