কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মন্দিরের হিসাবরক্ষক অনাথ দাসের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রোববার দিবাগত রাতে বাড়ির লোকজন ঘুমিয়ে থাকার সুযোগে দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে মেয়ের বিয়ের জন্য তৈরি করে রাখা স্বর্ণালংকার, পূজার চাঁদার টাকা, নগদ টাকা ও পরিবারের সদস্যদের স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রায় ৫ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
আজ সোমবার সকালে ঘুম থেকে উঠে ঘরের অবস্থা দেখে চুরির বিষয়টি টের পান অনাথ দাস ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। এ সময় তিনি দেখতে পান, ঘরের ওয়ারড্রব, ড্রেসিং টেবিল ও শোকেসের ড্রয়ার খোলা। জামাকাপড় ও বিভিন্ন আসবাবপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। পরে খোঁজ করে মেয়ের বিয়ের জন্য তৈরি করে রাখা স্বর্ণালংকার, দুর্গাপূজার জন্য তোলা চাঁদার টাকা, বাড়ির নগদ টাকা ও স্ত্রীর স্বর্ণালংকার না পাওয়ায় বিষয়টি নিশ্চিত হন তিনি। চোর বাড়ির দেয়াল টপকিয়ে ঢুকে থাকতে পারে বলে অনাথ দাস ও তাঁর পরিবারের ধারণা।
ঘটনাটি ঘটেছে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের মথুরাপুর দাসপাড়া এলাকায় শ্রী শ্রী সর্বজননী মন্দিরের পাশে। রোববার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় এ চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী অনাথ দাস ওই মন্দিরের হিসাবরক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দুর্গাপূজা উদ্যাপন কমিটির হিসাবরক্ষক হওয়ায় পূজার বিভিন্ন খরচের জন্য স্থানীয়ভাবে তোলা চাঁদার টাকা তাঁর কাছে রাখা ছিল। চুরি হওয়া টাকার মধ্যে চাঁদার ৬১ হাজার ৫০০ টাকাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এ ছাড়া চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে তাঁর একমাত্র মেয়ে অর্পিতা দাসের বিয়ে দেওয়ার কথা রয়েছে। মেয়ের বিয়ের জন্য আগে থেকেই স্বর্ণালংকার তৈরি করে রেখেছিলেন তিনি। সেই গহনাও চুরি হয়েছে। অনাথ দাসের মথুরাপুর বাজারে জুতা ও স্যান্ডেলের একটি দোকান রয়েছে।
অনাথ দাস বলেন, রাতে খাওয়াদাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়ি। রাত ২টার দিকে আমার স্ত্রী একবার ঘুম থেকে উঠে বাড়ির সবকিছু দেখে আবার শুয়ে পড়েন। তখন পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক ছিল। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি ঘরের আসবাবপত্র এলোমেলো। পরে খোঁজ করে দেখি মেয়ের বিয়ের জন্য তৈরি করে রাখা গহনা, পূজার জন্য তোলা চাঁদার ৬১ হাজার ৫০০ টাকার বাক্স, বাড়ির নগদ টাকা ও স্ত্রীর গহনা কিছুই নেই। সব মিলিয়ে প্রায় ৫ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা চুরি হয়েছে।
অনাথ দাসের স্ত্রী বলেন, রাত ২টার দিকে ঘুম থেকে উঠে একবার দেখি সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে। পরে সকালে উঠে দেখি ঘরের সবকিছু এলোমেলো। বিষয়টি দেখে আমরা কান্নাকাটি শুরু করলে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন।
ঘটনার খবর পেয়ে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের দৌলতপুর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক বাবু দেবনাথ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, ‘সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের একজন ভাইয়ের বাড়িতে চুরির ঘটনা শুনে সকালে আমি এখানে এসেছি। এসে শুনেছি, তাঁর মেয়ের বিয়ের জন্য তৈরি করা গহনা, পূজার জন্য তোলা ৬১ হাজার টাকার বেশি চাঁদার টাকা, বাড়ির নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরি হয়েছে। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।’
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, ‘চুরির খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’