কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে দুধকুমার নদ থেকে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এতে ১৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সোনাহাট সেতু ও নদীর তীর রক্ষা বাঁধ ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোনাহাট স্থলবন্দরগামী সড়কে দুধকুমার নদের ওপর প্রায় ১৩০ বছরের পুরোনো একটি রেলসেতু রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ওই সেতুর বিকল্প হিসেবে দক্ষিণ পাশে ৬৪৫ দশমিক ১৫ মিটার দীর্ঘ নতুন একটি সেতু নির্মাণাধীন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণাধীন সেতু ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তীর রক্ষা বাঁধের পাশে তিনটি অননুমোদিত ড্রেজার বসিয়ে পাইকেরছড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির ভাই আলম হোসেন, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক সরকার ও লেবু মিয়ার নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী মহল বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে। এতে ভারী বৃষ্টিপাতে তীর রক্ষা বাঁধ ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জালাল, আজিজুর রহমান ও রফিকুল বলেন, সোনাহাট সেতুর দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে দুধকুমার নদের ভাঙন ঠেকাতে পাউবো ব্লক দিয়ে তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করেছে। এর কাছেই তিনটি ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করায় বাঁধের ব্লক স্থানচ্যুত হয়ে ধসে যেতে পারে। পাশাপাশি তীরবর্তী বসতবাড়ি ও ফসলি জমিও ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। ঝামেলার আশঙ্কায় স্থানীয়রা প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে পারছেন না।
অভিযোগের বিষয়ে বালু উত্তোলনকারী আলম হোসেন বলেন, কয়েক দিন ধরে ড্রেজার বন্ধ রয়েছে। ড্রেজার সরিয়ে নেওয়া হবে।
ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পুকুরের তলদেশ সমান করতে একটি ড্রেজার চলছে।
থানার ওসি আজিম উদ্দিন বলেন, বালু উত্তোলন বন্ধ করা পুলিশের কাজ নয়। প্রশাসন চাইলে বালু উত্তোলন বন্ধে পুলিশ সহায়তা করবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ বলেন, বালু উত্তোলন বন্ধ করতে সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।