• ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় প্রায় আট শ রবিদাস পরিবারের বসবাস
• সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোনো সহায়তা পায়নি তারা
কুড়িগ্রামের উলিপুরে দুই শতাধিক দুস্থ রবিদাস পরিবারের মাঝে শারদীয় দুর্গাপূজার আনন্দ নেই। অন্যান্য বছরে দুর্গাপূজায় অসহায় পরিবারগুলো বিভিন্নভাবে সহায়তা পেলেও এ বছর তা পায়নি তারা। ফলে তাদের মাঝে নেই উৎসবের আমেজ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় প্রায় ৮০০ রবিদাস পরিবারের বসবাস। এর মধ্যে দুই শতাধিক পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। তারা দীর্ঘদিন থেকে অতি কষ্টে দিনাতিপাত করছে। এই দরিদ্র পরিবারগুলো শারদীয় দুর্গোৎসবে সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোনো সহায়তা পায়নি।
আজ রোববার দুপুরে পৌরসভার তেঁতুলতলা এলাকার রবিদাস সম্প্রদায়ের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শারদীয় দুর্গা উৎসবের আমেজ নেই পরিবারগুলোর মাঝে। ভুলুয়া রবিদাস (৬৩) বলেন, ‘উৎসব শুরু হলেও আমাদের মতো পরিবারগুলোর মাঝে তা নেই। অতি কষ্টে দিনযাপন করার কারণে ছেলেমেয়েদের নতুন জামা-কাপড় কিনে দেওয়ার মতো সাধ্য আমাদের নেই। আমাদের ব্যবসা প্রায় অচল; যা আয় হয়, তা দিয়ে কোনো রকম সংসার পরিচালনা করি। বছরের অন্য দিনগুলো যেমন, পূজার দিনগুলোও আমাদের কাছে তেমন। আমরা সব সময় সমাজে অবহেলিত। অন্য বছরগুলোতে প্রশাসন আমাদের সহযোগিতা করলেও এবার কোনো সহযোগিতা আমরা পাইনি। আমরা সব সময় বৈষম্যের শিকার।’
জোসনা রবিদাস (৫৫) বলেন, ‘তিনবেলা পেটভরে খাওয়াই কষ্টকর। সেখানে আবার পূজার কী আছে! আজ পূজার দ্বিতীয় দিন চললেও আমাদের ঘরে আনন্দ নেই।’
ধামশ্রেনী ইউনিয়নের ইন্দারার পাড় এলাকার চৈতা রবিদাস (৭৭), বজরা ইউনিয়নের বাবুর হাট এলাকার কার্তিক রবিদাসসহ অনেকে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘পূজা শুরু হলেও টাকার অভাবে কেনাকাটা করা সম্ভব হয়নি। কেউ আমাদের খবর রাখে না। বছরে একবার পূজার আনন্দ আসে, অথচ আমরা অসহায় রবিদাস পরিবারগুলো সে আনন্দ থেকে বঞ্চিত। এ বছর সরকারি বা বেসরকারিভাবে কেউ আমাদের কোনো ধরনের সহযোগিতা করল না।’
উপজেলা রবিদাস সম্প্রদায়ের সাধারণ সম্পাদক অনিল রবিদাস বলেন, ‘অন্যান্য বছর সরকারিভাবে আমরা চাল, কাপড়, ধুতি ও লুঙ্গি পেলেও এবার কোনো সহযোগিতা পাইনি। আমাদের সম্প্রদায়ের অনেক দরিদ্র পরিবার আছে, তারা খুবই কষ্টে সংসার চালাচ্ছে। দুর্গাপূজায় কোনো ধরনের সহযোগিতা পেলে পরিবারগুলো উপকৃত হতো।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) খন্দকার মো. ফিজানুর রহমান জানান, রবিদাস সম্প্রদায়ের জন্য সরকারিভাবে পৃথক কোনো বরাদ্দ নেই। অন্যান্য বছরে রবিদাস সম্প্রদায়ের জন্য পূজায় সরকারিভাবে সহায়তার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমি অবগত নই। তবে ইউএনও স্যার দুস্থ রবিদাস পরিবারের মধ্যে কাপড় বিতরণ করবেন বলে শুনেছি।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম আরিফ বলেন, রবিদাস সম্প্রদায়ের পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে দুস্থদের সহায়তা করা হবে।