কুড়িগ্রামের উলিপুর
কুড়িগ্রামের উলিপুরে একটি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও সভাপতির বিরুদ্ধে নিয়োগবাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের বাধার মুখে নিয়োগ কমিটি একটি ইটভাটায় গিয়ে নিয়োগের কাজ শেষ করেন বলে জানা গেছে। গত শনিবার উপজেলার বালারচর নাছিরিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী জানান, শনিবার সকালে মাদ্রাসার সভাপতি, অধ্যক্ষ, মাদ্রাসা বোর্ডের ডিজির প্রতিনিধিসহ কয়েকজন উপস্থিত হন। এর কিছু সময় পর চাকরিপ্রার্থীরা মাদ্রাসায় আসেন। বন্ধের দিন সেখানে লোকজনের উপস্থিতি দেখে স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে চান। এ সময় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোবাশ্বের রাশেদিন জানান, মাদ্রাসায় পাঁচটি শূন্য পদে নিয়োগের জন্য পরীক্ষা হবে। এর মধ্যে তিনজন ল্যাব সহকারী, একজন অফিস সহায়ক ও একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। নিয়োগ কমিটি চাকরিপ্রার্থীদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার জন্য এসেছেন।
কোনো রকম বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই গোপনে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় স্থানীয়দের বাধার মুখে নিয়োগ কমিটি ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়েন। পরে কয়েক কিলোমিটার দূরে ধামশ্রেণী ইউনিয়নের সাতকুড়া এলাকার একটি ইটভাটায় গিয়ে কমিটি বৈঠকে মিলিত হয়। বিকেলে পাঁচজনকে নিয়োগ দেওয়ার কথা জানানো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল জব্বার, ইয়াছিন আরাফাত, রাকিব হাসান, কামরুল হাসান, সাগর মিয়া বলেন, মাদ্রাসার সভাপতি ও অধ্যক্ষ গোপনে অবৈধভাবে তিনজন ল্যাব সহকারীর থেকে ৭৫ লাখ টাকা, একজন অফিস সহায়ক ও একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা নিয়েছেন। এভাবে তাঁরা ১ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এ কারণে লুকোচুরি করে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
মাদ্রাসার বিদ্যোৎসাহী সদস্য নুরুন্নবী বাসার বলেন, ‘নিয়োগ পরীক্ষা সম্পর্কে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। আগেও তিনজনকে গোপনে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এবারও গোপনে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টার কারণে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়েছেন।’
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও নিয়োগ কমিটির সদস্যসচিব মাওলানা মোবাশ্বের রাশেদিন জানান, পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ১৭ জন আবেদন করেন। সেখান থেকে পরীক্ষার মাধ্যমে পাঁচজনের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
মাওলানা মোবাশ্বের রাশেদিন বলেন, টাকা লেনদেনের কোনো প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবে না। যেহেতু মাদ্রাসায় স্থানীয়রা ঝামেলা করেছে, তাই ইটভাটায় বসে আলোচনা করা হয়েছে।
সভাপতি মাওলানা আব্দুল মমিন আনছারী মোবাইল ফোনে বলেন, কয়েকজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ সময় সেখানে কথা-কাটাকাটি হওয়ার কারণে ফেরার পথে ইটভাটায় বসে সমন্বয় করা হয়েছে। কোটি টাকার লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোনের সংযোগ কেটে দেন।