হোম > সারা দেশ > কুড়িগ্রাম

কৃষক দেখে সটকে পড়লেন কৃষি কর্মকর্তা ও ডিলার, সারের জন্য সড়ক অবরোধ

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

আগুন জ্বালিয়ে কুড়িগ্রাম-চিলমারী আঞ্চলিক সড়কে কৃষকদের অবরোধ। ছবি: আজকের পত্রিকা

কুড়িগ্রামের উলিপুরে কৃষকের উপস্থিতি দেখে সার না দিয়েই ডিলার ও দুই উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সটকে পড়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন কৃষকেরা।

আজ মঙ্গলবার সকালে উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের নতুন অনন্তপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে কুড়িগ্রাম-চিলমারী আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসি ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

কৃষক ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সকালে নতুন অনন্তপুর এলাকায় মেসার্স সুফিয়া এন্টারপ্রাইজের সামনে সার নেওয়ার জন্য জড়ো হন কৃষকেরা। এ সময় একসঙ্গে অনেক কৃষকের উপস্থিতি দেখে ওই ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা উমর ফারুক ও নকুল কুমার এবং সারের ডিলার সটকে পড়েন। এতে ক্ষুব্ধ কৃষকেরা ডিলারের দোকানের সামনে বাঁশ ফেলে ও আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে ৫০০ কৃষকের মাঝে ২১৫ বস্তা সার বিতরণ করা হয়।

আব্দুল আজিজ, আজিজার রহমান ও রহিমসহ কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেশ কয়েক দিন ধরে ডিলারের কাছে ঘুরেও সার পাচ্ছিলেন না তাঁরা। আজ মঙ্গলবার সার দেওয়ার আশ্বাসে সকালেই তাঁরা ডিলারের দোকানের সামনে জড়ো হন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও ডিলারের লোকজন না আসায় বাধ্য হয়ে সড়ক অবরোধ করেছেন বলে দাবি তাঁদের।

মেসার্স সুফিয়া এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ডিলার সামছুল আলম বলেন, সার বিতরণ করতে দেরি হওয়ায় কৃষকেরা সড়ক অবরোধ করেছেন। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সুষ্ঠুভাবে সার বিতরণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা উমর ফারুক ও নকুল কুমারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাঁদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার জানান, সার বিতরণের আগেই কিছু উচ্ছৃঙ্খল লোক সড়ক অবরোধ করেছিলেন। পরে আমরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। বর্তমানে কোনো সমস্যা নেই।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সহিদুল ইসলাম বলেন, ডিলার ও সংশ্লিষ্ট উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কৃষকদের বোঝাতে না পারায় একটু সমস্যা হয়েছিল। পরে সবার উপস্থিতিতে সার বিতরণ করা হয়েছে। তেমন কোনো সমস্যা হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম আরিফ জানান, কৃষকের উপস্থিতি দেখে সার ডিলার ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা একটু ভয় পেয়েছিলেন। পরে আমরা গিয়ে বিষয়টি স্বাভাবিক করতে পেরেছি।