হোম > সারা দেশ > কুড়িগ্রাম

বিনোদনের আড়ালে অশ্লীলতা, গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ‘কাশফুলের ঘাট’

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি 

ভূরুঙ্গামারীতে অশ্লীলতা ছড়ানোর অভিযোগে চরাঞ্চলে গড়ে ওঠা ‘কাশফুলের ঘাট’ নামে একটি চা ও কফি শপ গুঁড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অশ্লীলতা ছড়ানোর অভিযোগে একটি চরাঞ্চলে গড়ে ওঠা ‘কাশফুলের ঘাট’ নামে একটি চা ও কফি শপ গুঁড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার বিকেলে অভিযান চালিয়ে আস্তানাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। দুর্গম এলাকায় অসামাজিক কার্যকলাপের এই কেন্দ্রটি বন্ধ হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুরের বিস্তীর্ণ চরে প্রাকৃতিকভাবে একটি কাশবন গড়ে ওঠে। কাশবনের সৌন্দর্য উপভোগ করতে সেখানে দর্শনার্থীদের আনাগোনা শুরু হলে ‘কাশফুলের ঘাট’ নামের ওই চা-কফি শপটি গড়ে তোলা হয়। তবে অভিযোগ ওঠে, ক্রেতা টানতে সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নামে অশ্লীল নৃত্য পরিবেশন করা হতো। এমনকি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা ক্লাস ফাঁকি দিয়ে এই কাশবনে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ত।

পুলিশ জানায়, সন্ধ্যার পর সেখানে নিয়মিত বসত ডিজে পার্টি। ভাড়ায় নর্তকী এনে অশ্লীল নাচের পাশাপাশি চলত মাদক সেবন ও অসামাজিক কাজ। এলাকাটি দুর্গম চর ও যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হওয়ায় পুলিশের নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। ফলে স্থানটি কিশোর-কিশোরীদের নৈতিক অবক্ষয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। আজ ভূরুঙ্গামারী থানা-পুলিশ ও অর্ধশতাধিক গ্রামপুলিশের একটি দল যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে আস্তানাটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়।

অভিযানকালে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ, ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) জামিলুর রহমান এবং ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, ‘দুর্গম কাশবনে কেবল চা কিংবা কফি খাওয়া উদ্দেশ্য ছিল না, এর আড়ালে অন্য উদ্দেশ্য কাজ করত। অশ্লীলতা ছড়ানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগে কফি শপটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিনোদনের নামে পরিচালিত এমন যেকোনো অসামাজিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।’