কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনার পর উপজেলায় সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ঢাকাগামী যাত্রীদের অটোরিকশা ও সিএনজিতে ৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কুড়িগ্রাম জেলা সদরে গিয়ে বাসে উঠতে হচ্ছে।
গত সোমবার রাতে উপজেলার আন্ধারীঝাড়ে এক ব্যক্তি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হলে বিক্ষুব্ধ জনতা ঢাকাগামী স্বাধীন পরিবহন নামের একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কুড়িগ্রাম ও উত্তর ধরলা বাস মালিক সমিতি ভূরুঙ্গামারীর সঙ্গে সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়।
পুড়ে যাওয়া বাসের মালিক বাদী হয়ে গতকাল মঙ্গলবার রাতে বাসে আগুন দেওয়ার অভিযোগে ৩০ থেকে ৩৫ জনকে আসামি করে ভূরুঙ্গামারী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
এদিকে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তির শিকার ঢাকাগামী যাত্রী মাহাদী ইমাম, মাহজুবাহ হক ও আলেফ উদ্দিন বলেন, ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশ্যে নাইট কোচের টিকিট সংগ্রহ করেছিলেন তারা। তবে টিকিট কাউন্টার থেকে জানানো হয়, বাস ভূরুঙ্গামারীতে আসবে না। কুড়িগ্রাম গিয়ে বাসে উঠতে হবে। এদিকে মালামালসহ ব্যাগ-বস্তা নিয়ে ৪০ কি.মি. পাড়ি দিয়ে কুড়িগ্রামে যাওয়া ভীষণ ঝক্কির। একদিকে বাড়তি অর্থ ব্যয় হচ্ছে। অপরদিকে সময় নষ্ট হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কফিল উদ্দিন বলেন, “বাস ও শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনা করে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। বাসে অগ্নিসংযোগকারীদের আইনের আওতায় এনে বাস ও শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে বাস চালু করা সম্ভব হবে।” তিনি এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন জানান, বাস দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বাস চালুর ব্যাপারে কুড়িগ্রাম মালিক সমিতির সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। বাস পোড়ানোর ঘটনায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ বলেন,`বাস যোগাযোগ চালুর বিষয়ে উত্তর ধরলা মোটর মালিক সমিতির সম্পাদকের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি বাস চালুর বিষয়ে আলোচনায় বসার আশ্বাস দিয়েছেন।'