হোম > সারা দেশ > কুড়িগ্রাম

ব্রহ্মপুত্রের তীর রক্ষা বাঁধের বড় অংশজুড়ে ধস, আতঙ্কে কয়েক গ্রামের মানুষ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্রের ডান তীররক্ষা বাঁধে ধস। ছবি: আজকের পত্রিকা

ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষায় কুড়িগ্রামের চিলমারীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দেওয়া বাঁধের চারটি আলাদা স্থানে প্রায় ২০০ মিটার অংশজুড়ে ধস দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত মধ্যরাতে উপজেলার কাঁচকোল বাজার ও পুঁটিমারি এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে বাঁধের আরও প্রায় ৩৫ মিটার অংশে নতুন করে ধস দেখা দেয়।

গত এক সপ্তাহে স্বল্প দূরত্বের মধ্যে তিনটি স্থানে ফাটল ও ধস দেখা দেওয়ায় বাঁধের প্রায় ৬০০ মিটার অংশ ভাঙনঝুঁকিতে পড়েছে। এতে কাঁচকোল ও পুঁটিমারি এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

এর আগে গত ১, ১৬ ও ২০ জুলাই তিন দফায় ব্রহ্মপুত্রের ডান তীর রক্ষা বাঁধে ধস দেখা দেয়। পরে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ধস ঠেকানোর উদ্যোগ নেয় পাউবো। এর প্রায় দুই মাসের ব্যবধানে একই বাঁধের বড় একটি অংশে আবারও ধস দেখা দিল।

এদিকে বাঁধে ধসের খবর পেয়ে শুক্রবার দুপুরে চিলমারীর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পাউবো রংপুর বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত মেরামতকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে বাঁধে ধস শুরু হয়। একের পর এক কংক্রিটের ব্লক ও জিও ব্যাগ নদে ধসে পড়তে থাকে। এতে কাঁচকোল ও পুঁটিমারি এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পাউবো সূত্র জানায়, কাঁচকোল বাজার থেকে পুঁটিমারি পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিটার অংশের মধ্যে চারটি স্থানে অন্তত ২০০ মিটার অংশে ফাটল ও ধস দেখা দিয়েছে। ফলে বাঁধের প্রায় ৬০০ মিটার অংশ ঝুঁকিতে রয়েছে। বাঁধের ওই অংশটি দুর্বল কাঠামোর ওপর নির্মিত হওয়ায় সেখানে প্রায়ই ধস দেখা দেয়। পরে জরুরি প্রতিরক্ষা কাজের মাধ্যমে ঝুঁকি মোকাবিলা করা হয়।

পাউবো জানায়, বাঁধের ডান তীর ঘেঁষে নদের মূল প্রবাহ থাকায় সেখানে বারবার ফাটল ও ধস দেখা দিচ্ছে। বিষয়টি জানিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত সপ্তাহে কাঁচকোল বাজারসংলগ্ন ডান তীর রক্ষা বাঁধের প্রায় ২৮ মিটার অংশে ধস দেখা দেয়। এর প্রায় ৬০০ মিটার দূরে পুঁটিমারি বাজারসংলগ্ন বাঁধের আরও প্রায় ৩০ মিটার অংশের জিও ব্যাগ সরে গিয়ে ব্লক পিচিংয়ে ফাটল দেখা দেয়। ওই দুটি স্থানের মেরামতকাজ শুরুর আগেই বৃহস্পতিবার রাতে তাদের মধ্যবর্তী স্থানে আরও প্রায় ৩৫ মিটার অংশে ধস দেখা দেয়। এতে তীর রক্ষা বাঁধের কংক্রিটের ব্লক নদে ধসে পড়ছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরক্ষা কাজ শুরু করা না হলে তীরবর্তী এলাকার বহু বাড়িঘর ও আবাদি জমি নদে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা কবিরুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে পানি বাড়ছে। যে হারে ভাঙন চলছে, তাতে দ্রুত এটি বন্ধ করার ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বাঁধটির বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।’

পাউবো কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘প্রায় ৬০০ মিটার অংশজুড়ে চারটি স্থানে কোথাও ফাটল, আবার কোথাও ধস দেখা দিয়েছে। আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছি। মূল্যায়ন শেষে ক্ষতিগ্রস্ত অংশের মোট দূরত্ব বলা যাবে। প্রয়োজনীয় মেরামতকাজের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছে। অনুমতি পেলেই কাজ শুরু করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, আপাতত বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।