কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষা বাঁধের চারটি পৃথক স্থানে প্রায় ২০০ মিটার অংশে ধস দেখা দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার কাঁচকোল বাজার ও পুঁটিমারি এলাকার মাঝামাঝি স্থানে বাঁধে নতুন করে ৩৫ মিটার ধস সৃষ্টি হয়। ফলে এক সপ্তাহে স্বল্প দূরত্বে তিনটি স্থানে ফাটলসহ ধস দেখা দেওয়ায় বাঁধের প্রায় ৬০০ মিটার অংশ ঝুঁকিতে পড়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
এর আগে গত ১, ১৬ ও ২০ জুলাই তিন দফায় ব্রহ্মপুত্রের ডান তীর রক্ষা বাঁধে ধস দেখা দেয়। পরে সেখানে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ধস ঠেকানোর উদ্যোগ নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। দুই মাসের ব্যবধানে একই বাঁধে আবার বড় অংশজুড়ে ধস দেখা দিয়েছে।
এদিকে গতকাল শুক্রবার দুপুরে চিলমারী ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর এলাকা পরিদর্শন করেছেন পাউবোর রংপুর বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী। তাঁরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত মেরামতকাজ শুরুর আশ্বাস দেন।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে বাঁধে তীব্র ভাঙন দেখা দেয়। একের পর এক ব্লক ও জিও ব্যাগ ধসে যেতে থাকে। ভাঙনের ফলে কাঁচকোল ও পুঁটিমারি এলাকার মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পাউবো কর্তৃপক্ষ বলছে, কাঁচকোল বাজার থেকে পুঁটিমারি পর্যন্ত তীর রক্ষা বাঁধের ৬০০ মিটার দূরত্বে চারটি অংশে অন্তত ২০০ মিটারে ধস দেখা দিয়েছে। এতে বাঁধের ৬০০ মিটার অংশ ঝুঁকিতে পড়েছে। বাঁধটির ওই স্থান বেশ দুর্বল কাঠামোর ওপর নির্মিত। ওই অংশে প্রায়ই ধস দেখা দেয়। জরুরি প্রতিরক্ষা কাজ করে সেগুলো ঝুঁকিমুক্ত করা হয়।
ডান তীর ঘেঁষে নদের মূল প্রবাহ প্রবাহিত হওয়ায় বাঁধটিতে বারবার ফাটল ও ধস দেখা দিচ্ছে। বিষয়টি জানিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে বলে জানায় পাউবো।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক সপ্তাহ আগে কাঁচকোল বাজারসংলগ্ন স্থানে ডান তীর রক্ষা বাঁধের প্রায় ২৮ মিটার অংশে ধস দেখা দেয়। এর ৬০০ মিটার দূরত্বে পুঁটিমারি বাজারসংলগ্ন তীরের
আরও ৩০ মিটার অংশের জিও ব্যাগ সরে গিয়ে ব্লক পিচিংয়ে ফাটল দেখা দেয়। সেগুলো মেরামত শুরু করার আগেই বৃহস্পতিবার রাতে আগের দুই স্থানের মধ্যবর্তী বাঁধের আরও ৩৫ মিটার অংশে ধস দেখা দিয়েছে। তীর রক্ষা বাঁধের কংক্রিটের ব্লক নদীতে ধসে পড়ছে। জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরক্ষা কাজ শুরু না করলে তীরবর্তী এলাকার বহু বাড়িঘর ও আবাদি জমি নদে বিলীন হয়ে
যেতে পারে।
স্থানীয় কবিরুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিন ধরে পানি বাড়ছে। যে হারে ভাঙন চলছে, তাতে দ্রুত এটি বন্ধ করার ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বাঁধটির বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
পাউবো কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘প্রায় ৬০০ মিটার অংশজুড়ে চারটি স্থানের কোথাও ফাটল আবার কোথাও ধস দেখা দিয়েছে। আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মূল্যায়ন করছি। মূল্যায়ন শেষে মোট দূরত্ব বলা যাবে। প্রয়োজনীয় মেরামতকাজের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছে। অনুমতি পেলেই কাজ শুরু করা হবে।’ আপাতত বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান এই প্রকৌশলী।