কিশোরগঞ্জ জেলা ও সদর সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয় থেকে সরকারি রেজিস্ট্রি বালাম বইয়ের আটটি পৃষ্ঠা চুরি ও তথ্য জালিয়াতির অভিযোগে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় মামলা হয়েছে। কার্যালয়ের রেকর্ড কিপার দীপালী রানী পাল গত ২ অক্টোবর মামলাটি করেন। মামলায় নাম উল্লেখ থাকা ললিত সরকারকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলায় ললিত সরকার (৪৯) নামের এক ব্যক্তিসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। ললিত সরকার কিশোরগঞ্জের পূর্ব তারাপাশা এলাকার মৃত সুদন সরকারের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১ অক্টোবর সকালে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নকলনবিশ পপি সাহা রেকর্ড কিপার দীপালী রানী পালকে জানান, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ললিত সরকার সরকারি রেজিস্ট্রি বালাম নম্বর ৫৮-এর ৩৯ থেকে ৪৬ নম্বর পৃষ্ঠা, অর্থাৎ মোট আটটি পৃষ্ঠা নিয়ে তাঁর বাসায় যান।
ললিত সরকার বালাম বইয়ের পাতাগুলোর একটি অবিকল নকল কপি তৈরি করে দেওয়ার অনুরোধ জানান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। বালামের পাতার লেখা কাটাছেঁড়া এবং নাম-ঠিকানা পরিবর্তিত দেখে পপি সাহার সন্দেহ হয়। সরকারি নথি একজনের হস্তগত থাকায় তিনি ওই দলিলের নকল লিখতে অস্বীকৃতি জানান।
দীপালী রানী পাল পরে বালাম নম্বর ৫৮ পরীক্ষা করে দেখেন, ৩৯ থেকে ৪৬ নম্বর পর্যন্ত পৃষ্ঠাগুলো বইয়ে নেই। দীপালী রানী পালের ধারণা, গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবরের মধ্যে যেকোনো সময়ে ললিত সরকার অজ্ঞাত আসামিদের সহযোগিতায় অফিসে প্রবেশ করে প্রতারণা ও জালিয়াতির উদ্দেশ্যে বালাম বইয়ের ওই অংশ চুরি করেন।
কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা বলেন, মামলা দায়েরের পর গত ২ অক্টোবর দুপুরে ললিত সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালতের বিচারক কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পুলিশ তাঁকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছে।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জের সাব-রেজিস্ট্রার নাজমুল ইসলামের মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।