কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে পাঁচ মাস আগে নিখোঁজ আরিফুল ইসলাম সালমান (২১) নামের এক যুবকের হাড় ও কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার দুপুরে উপজেলার নরসুন্দা নদীর কচুরিপানার নিচ থেকে এসব হাড় ও কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
নিহত সালমান উপজেলার দক্ষিণ কুড়িমারা গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর গ্রামের গোলাপ মিয়ার ছেলে মাহিন (২০) ও শাকিল মিয়া (১৮) এবং একই এলাকার রফিক মিয়া (১৯)।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ মে সন্ধ্যায় বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন সালমান। পরে স্বজনেরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাননি। ১৯ মে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তাঁর বাবা। এরপর থেকে পুলিশ তাঁকে উদ্ধারে তদন্ত শুরু করে। দীর্ঘ পাঁচ মাসেও তাঁর কোনো সন্ধান না মেলায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটছিল পরিবারের সদস্যদের।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সালমান নিখোঁজের ঘটনায় তদন্তের অংশ হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে পাকুন্দিয়া উপজেলার বিশ্বনাথপুরের চৌকিদার বাড়ি এলাকায় অভিযান চালায় জেলা ডিবি পুলিশ। সেখান থেকে শাকিল ও মাহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রফিক মিয়াকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ডিবি পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাকিল ও মাহিন সালমানকে হত্যার পর তাঁর লাশ নরসুন্দা নদীতে গুম করার কথা স্বীকার করেছেন। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজ শুক্রবার দুপুরে নরসুন্দা নদীর কচুরিপানার নিচ থেকে সালমানের হাড় ও কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।
হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, মামলাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত করছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আগামীকাল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানাবেন জেলা পুলিশ সুপার।