হোম > সারা দেশ > কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জে স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রতীকী ছবি

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে এক নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার দায়ে তাঁর স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আসামিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক সুপ্রিয়া রহমান আসামির অনুপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন বলে মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনসুর আলম জানিয়েছেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ইসমাইল ওরফে সাগর মিয়া বাজিতপুর উপজেলার উত্তর সরারচর এলাকার আয়েত আলীর ছেলে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে বাজিতপুর উপজেলার সরারচর এলাকার নয়াহাটি গ্রামের মৃত তোফাচাঁদের মেয়ে ঝর্ণা আক্তারের সঙ্গে সাগর মিয়ার বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে দুই মেয়ে রয়েছে।

বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ইসমাইল সাগর মিয়া স্ত্রী ঝর্ণা আক্তারকে মারধরসহ বিভিন্নভাবে নির্যাতন করতেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ২০১৬ সালের ১১ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ঝর্ণা আক্তার তাঁর দুই মেয়েকে নিয়ে গাজীপুরের ভাড়া বাসা থেকে বাজিতপুর উপজেলার নিলখী নয়াহাটে মায়ের বাড়িতে চলে আসেন। সেখানে তিনি তাঁর মাকে স্বামীর নির্যাতনের বিষয়টি জানান।

পরদিন ১২ এপ্রিল রাত ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে সাগর মিয়া অজ্ঞাতনামা আরও দুজনকে সঙ্গে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে যান। একপর্যায়ে তিনি কোমর থেকে ধারালো ছুরি বের করে ঝর্ণা আক্তারের বুকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন। পরে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনরা ঝর্ণা আক্তারকে ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের মা মোছা. জাহেরা বেগম বাদী হয়ে ইসমাইল সাগর মিয়া ও অজ্ঞাতনামা আরও দুজনের বিরুদ্ধে বাজিতপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলাটি তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ২৪ মে বাজিতপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ইসমাইল সাগর মিয়াকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

মামলার শুরু থেকেই ইসমাইল সাগর মিয়া পলাতক ছিলেন। পরে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষে আজ সোমবার আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করেন।