কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে মসজিদসংলগ্ন কক্ষে শামীম মিয়া (২৫) নামের এক ইমামের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে একই কক্ষে তাঁর বন্ধু সোহানকে (২৪) রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
গতকাল রোববার রাত দেড়টার দিকে উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চরঝাকালিয়া গ্রামের ইছামুদ্দিন সরকার বাড়ি মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শামীম ওই মসজিদের ইমাম ও একই গ্রামের ফরিদ মিয়ার ছেলে। আহত সোহান একই গ্রামের মৃত ছইদু মিয়ার ছেলে। তাঁরা দুজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাঝেমধ্যে শামীম ও সোহান মসজিদসংলগ্ন একটি কক্ষে একসঙ্গে রাত যাপন করতেন। গতকাল রাতে ওই কক্ষ থেকে হট্টগোলের শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন সেখানে যান। এ সময় সোহানকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁর গলা ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল।
লোকজনের কাছে তখন সোহান দাবি করেন, শামীম তাঁকে আঘাত করেছেন। তবে তৎক্ষণাৎ এই অভিযোগ অস্বীকার করেন শামীম।
পরে স্থানীয় বাসিন্দারা সোহানকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এরপর শামীমের বাবা ফরিদ মিয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে মসজিদসংলগ্ন ওই কক্ষে ছেলেকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে আজ সোমবার ভোরে কটিয়াদী মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
শামীম স্থানীয় ফেকামারা আলিম মাদ্রাসায় পড়াশোনার পাশাপাশি ওই মসজিদে ইমামতি করতেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুই বন্ধুর মধ্যে আগে কোনো বিরোধ বা মনোমালিন্যের কথা তাঁদের জানা ছিল না।
শামীমের বাবা ফরিদ মিয়া ও চাচা আবু তাহের বলেন, ‘শামীম এলাকায় কারও সঙ্গে ঝগড়াঝাঁটিতে জড়াত না। সে এমন সিদ্ধান্ত নেবে, তা আমরা বিশ্বাস করি না। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে বলে আমাদের সন্দেহ। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করার দাবি জানাচ্ছি।’
আহত সোহানের চাচি স্বপ্না বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সোহানকে রক্তাক্ত অবস্থায় পাই। তার গলা ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। শামীম তাকে আঘাত করেছে বলে জানিয়েছিল সোহান। তবে তাদের মধ্যে আগে কোনো বিরোধ ছিল বলে আমাদের জানা ছিল না।’
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে সুরতহাল ও আলামত দেখে বিষয়টিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সৈয়দ নজরুল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসাধীন আহত সোহানের জবানবন্দি নেওয়া সম্ভব হলে ঘটনার মূল কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।