হোম > সারা দেশ > কিশোরগঞ্জ

রোপা আমন খেতে ইঁদুরের উপদ্রব, ফলন নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি 

জিনারী ইউনিয়নের পিপলা কান্দি গ্রামের কৃষক মো. রফিকুল ইসলামের ধানখেত। ছবি: আজকের পত্রিকা

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে রোপা আমন ধান খেতে ইঁদুরের উপদ্রব দেখা দিয়েছে। ইঁদুর ধানগাছের গোড়া কেটে ফেলায় দিশেহারা কৃষকেরা। কৃষকদের অভিযোগ, ইঁদুর দমনে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ বা কোন সহায়তা পাচ্ছেন না। এদিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলছেন, কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী চাষাবাদ না করায় ইঁদুরের উপদ্রব বেড়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌর এলাকায় চলতি বছর ৮ হাজার ২৫১ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষ করা হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ৪ থেকে সাড়ে ৪ টন হিসেবে ৩৩ হাজার থেকে ৩৭ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

উৎপাদনের এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে অন্যত্র ধান বিক্রির সম্ভাবনা ছিল। তবে ইঁদুরের আক্রমণে সেই সম্ভাবনা ভেস্তে যাওয়ার পথে।

ধানখেতের অধিকাংশ গাছ এখন থোড় হওয়ার পর্যায়ে রয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই এসব গাছ থেকে ধানের শিষ বের হওয়ার কথা ছিল। ঠিক এ সময় ইঁদুর ধানগাছের গোড়া কেটে ফেলছে।

গোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক সোহরাব উদ্দিন জানান, ইঁদুর তাঁর একটি ধানখেতের অধিকাংশ গাছ কেটে দিয়েছে।

জিনারী ইউনিয়নের পিপলা কান্দি গ্রামের কৃষক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ইঁদুর তাঁর দুই খণ্ড জমির ধান নষ্ট করে দিয়েছে। ইঁদুরের উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে উপজেলা কৃষি অফিসের কোনো কর্মকর্তা তদারকি বা পরামর্শ দিতে আসেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বাজার থেকে নিজ উদ্যোগে বিষটোপ প্রয়োগ করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। দ্রুত ইঁদুরের উপদ্রব থেকে ধানের জমি রক্ষার দাবি জানান তিনি।

তবে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয় না—এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ মোহাম্মদ মহসিন। তিনি বলেন, ধান রোপণের আগেই কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়, তবে অনেকে তা মানেন না।

শেখ মোহাম্মদ মহসিন বলেন, ধান রোপণের সময় কৃষকদের সারিবদ্ধভাবে চারা লাগানো এবং প্রতি ১০ সারির পর একটি সারি ফাঁকা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। কৃষকেরা মনে করেন, সারি ফাঁকা রাখলে উৎপাদন কমে যাবে। তবে এ ধারণা ভুল।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার ভাষ্য, ‘সারিবদ্ধভাবে ধান না লাগালে খেত ঝোপঝাড়পূর্ণ ও অন্ধকার হয়ে পড়ে, যা ইঁদুরের উপদ্রব বাড়ায়। সারির মধ্যে ফাঁকা রাখা, পার্চিং (ফসলের খেতে ডালপালা বা কঞ্চি পুতে পাখি বসার ব্যবস্থা করা) এবং জমির আশপাশের আইলের ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখলে ইঁদুরের উপদ্রব অনেকটাই কমে যায়।’ পার্চিং থাকলে প্যাঁচা ইঁদুর ধরে খায় বলেও তিনি জানান।

শেখ মোহাম্মদ মহসিন আরও বলেন, ইঁদুর দমনে ইয়ন কোম্পানির রোমা কেক কার্যকর। ইঁদুর অতিশয় চালাক প্রাণী হওয়ায় কোনো খাবার খেয়ে দলের একটি সদস্য মারা গেলে অন্য ইঁদুরগুলো সাধারণত ওই বস্তু খায় না। রোমা কেক বা ল্যানির‍্যাট খেলে দুই থেকে তিন দিন পর ইঁদুর মারা যায়; ততক্ষণে তারা কী খেয়ে অসুস্থ হয়েছে, তা ভুলে যায়।