হোম > সারা দেশ > কিশোরগঞ্জ

ভৈরবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ও ময়লার ভাগাড় অপসারণের দাবিতে সড়ক অবরোধ

ভৈরব(কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

ময়লার ভাগাড় অপসারণ, নিয়মিত মশক নিধন ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার দাবিতে এলাকাবাসীর সড়ক অবরোধ। ছবি: আজকের পত্রিকা

কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌর শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় ময়লার ভাগাড় অপসারণ, নিয়মিত মশক নিধন ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী। আজ রোববার সকাল ১০টার দিকে পৌর শহরের বাগানবাড়ী রোডের মনামারা ব্রিজসংলগ্ন এলাকা ও আইস কোম্পানির মোড়ে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করা হয়।

অবরোধের কারণে সড়কের দুই পাশে যান চলাচল ব্যাহত হয়। কর্মস্থল, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতকারী মানুষকে কিছু সময় অপেক্ষা করতে হয়। স্থানীয়দের বিক্ষোভে সড়কে যানজটও সৃষ্টি হয়।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভৈরব পৌর শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এলাকায় একাধিক ময়লার স্তূপের পাশাপাশি দুটি বড় ময়লার ভাগাড় রয়েছে। এগুলো মশার প্রজনন স্থানে পরিণত হয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, নিয়মিত মশক নিধন ও ময়লা অপসারণের দাবি জানানো হলেও কার্যকর ও স্থায়ী সমাধান হয়নি। পৌর শহরের অন্য এলাকার তুলনায় ২ নম্বর ওয়ার্ডে ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেশি বলেও দাবি করেন তাঁরা। অনেক পরিবারের একাধিক সদস্য ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। গুরুতর অবস্থায় কয়েকজন ঢাকাসহ বিভিন্ন হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলেও জানান তাঁরা।

বেলা ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে যান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ. এইচ. এম. আজিমুল হক। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন তিনি। আশ্বাসের পর এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর একই ওয়ার্ডের বাসিন্দারা দুটি বড় ময়লার ভাগাড় অপসারণের দাবিতে একই সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছিলেন।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন ভৈরব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি জাহিদুল হক জাবেদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব আরিফুল হক সুজন, পৌর ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আনিস উল্লাহ মিয়া, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হাজী ইসমাইল, যুবদল সভাপতি জাহিদ মিয়া (জাবেদ), ছাত্রদল নেতা জাহিদুল ইসলাম হৃদয় এবং স্থানীয় বাসিন্দা শামীম আহমেদ, রাকিব হাসান ও শহীদ মিয়াসহ অনেকে।

ভৈরব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি জাহিদুল হক জাবেদ বলেন, ‘ভৈরবে ডেঙ্গু মহামারি আকার ধারণ করেছে। শহরের প্রতিটি বাড়িতে ডেঙ্গুর রোগী রয়েছে। ২ নম্বর ওয়ার্ডে অনেক বাড়িতে চার থেকে পাঁচজন করে ডেঙ্গু রোগী রয়েছে। এ ওয়ার্ডের ২০ থেকে ২৫ জন রোগী ঢাকাসহ বিভিন্ন হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি রয়েছেন।’

জাহিদুল হক জাবেদ বলেন, ‘২ নম্বর ওয়ার্ডে ছোট ছোট ময়লার স্তূপের পাশাপাশি দুটি বড় ভাগাড় রয়েছে। বাগানবাড়ী রোডের মনামারা ব্রিজসংলগ্ন এলাকা এবং ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন রোডের পাশের ময়লার স্তূপ থেকে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে বলে আমরা মনে করছি। এসব ময়লার ভাগাড়ের বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা না করলে ডেঙ্গুর পাশাপাশি অন্যান্য রোগও ছড়িয়ে পড়তে পারে।’

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ. এইচ. এম. আজিমুল হক বলেন, ‘ভৈরবে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়া নিয়ে আমাদের মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে। এই ওয়ার্ডে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ইতিমধ্যে স্টেশন এলাকার ময়লার ভাগাড় অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দুই-এক দিনের মধ্যে মনামারা ব্রিজসংলগ্ন এলাকার ময়লার ভাগাড়ও অপসারণ করা হবে।’

আজিমুল হক আরও বলেন, ‘ময়লা ব্যবস্থাপনার স্থায়ী সমাধানের জন্য ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণসহ বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। ইতিমধ্যে জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত মশক নিধন, দ্রুত ময়লা অপসারণ এবং আক্রান্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি করা হচ্ছে।’