হোম > সারা দেশ > কিশোরগঞ্জ

প্রাথমিক বিদ্যালয়: একাধিক ভবনে সংকুচিত মাঠ, খেলাধুলা ব্যাহত

মোহাম্মদ জাকির হোসেন, হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ)

বিদ্যালয়ের কাছাকাছি দুটি ভবন গড়ে তোলা হয়েছে। গত সোমবার কিশোরগঞ্জ হোসেনপুর উপজেলার কাওনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ছবি: আজকের পত্রিকা

বিদ্যালয়ের মাঠের উত্তর দিকে একতলা ভবন। পূর্ব পাশে আরেকটি দোতলা ভবন। মাত্র ৫২ শতক জমির ওপর দুটি ভবন নির্মাণের কারণে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠটি ছোট হয়ে গেছে। গত সোমবার কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার আড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের কাওনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই চিত্র দেখা যায়।

জানা গেছে, উপজেলার ১১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অন্তত ২০টিতে তিন দশকে তিনবার ভবন নির্মাণ করতে হয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে পুরোনো ভবনের পাশেই নতুন ভবন করতে হয়েছে। একাধিক ভবন নির্মাণের কারণে শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ ছোট হয়ে গেছে। এ ছাড়া অনেক বিদ্যালয়ে ১৯৯৫ সালে উদ্বোধন করা অনেক ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। সেগুলোতে এখনো শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হচ্ছে।

হোসেনপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাদিকুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে শুধু বর্তমান চাহিদা নয়, ভবিষ্যতে সম্প্রসারণের সুযোগ, শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ এবং বিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিবেশ—সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। এই ভবনগুলোর নকশা তৈরিতে অনিয়ম হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা উচিত।

কাওনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহফুজুর রহমান বিপ্লব বলেন, মূলত প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির-২ (পিইডিপি-২)-এর আওতায় একতলা ভবনটি করা হয়। পরে পিইডিপি-৪ প্রকল্পের আওতায় ওই ভবন ওপরের দিকে বাড়াতে গিয়ে দেখা যায়, দোতলা ফাউন্ডেশন না করেই ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। ভবনটি দোতলা করা সম্ভব না হওয়ায় এটির পূর্ব পাশে ২০২০ সালে আরেকটি দোতলা ভবন নির্মাণ করতে হয়েছে। দোতলা ভবনের পাশে টিনশেডের একটি ভবন ছিল। দোতালা ভবন করার আগে সেটি ভেঙে ফেলা হয়। টিনশেডের ভবনের জায়গাটি বর্তমানে ব্যক্তিমালিকানায় আছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মৃধা, সানজিদা আক্তার, জাকিয়া ও রনি মিয়া বলে, ‘স্কুলের মাঠটা আরও বড় হলে খেলাধুলা করতে আমাদের সুবিধা হতো।’

গড়মাছুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিপলাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তারাপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হোগলাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দু-তিনটি ভবন রয়েছে।

তারাপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সালমা আক্তার নিপা বলেন, তাঁর বিদ্যালয়ে দুটি ভবন রয়েছে। একাধিক ভবনের কারণে মাঠ ছোট হয়েছে। মাঠ ছোট হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ভালোমতো খেলাধুলা করতে পারে না।

পুরোনো ভবনগুলোয় দ্বিতল ফাউন্ডেশন (ভিত) না থাকার ব্যাপারে হোসেনপুর উপজেলা প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার দাস বলেন, ওই সময়ে শিক্ষা কার্যালয়ের চাহিদা এবং প্রয়োজন বিবেচনায় ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।