কিশোরগঞ্জে পূজামণ্ডপ ও মন্দিরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা-কর্মীদের পাহারা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। একই সঙ্গে জেলায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
আজ রোববার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ইয়াসের খান চৌধুরী।
জেলা প্রশাসনের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী তাঁর নামের নিচে ‘মাননীয় প্রতিমন্ত্রী’ না লিখতে বলেন। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ থেকে ইতিমধ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
পূজার নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘পূজা যেভাবে উদ্যাপিত হচ্ছে বা হবে, সেখানে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা হওয়ার সুযোগ দেখছি না। তারপরও আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’
জেলা পরিষদের প্রশাসকের দেওয়া পূজামণ্ডপের তালিকা গুরুত্ব দিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
পূজামণ্ডপ ও মন্দিরগুলো পাহারার আওতায় আনার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দলীয় নেতা-কর্মী ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারাও সম্মিলিতভাবে এ কাজে যুক্ত হতে পারেন।
ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, কোনো গুপ্ত বাহিনী বা নিষিদ্ধ সংগঠন যাতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে নজর রাখতে হবে।
পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন প্রতিমন্ত্রী। সিসিটিভির রেকর্ড মোবাইল ফোনে বা ক্লাউডে সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রতিটি পূজামণ্ডপে ৬০০ কেজি করে চাল দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান ইয়াসের খান চৌধুরী।
আজান ও নামাজের সময়সূচি তৈরি করে প্রতিটি পূজামণ্ডপে পৌঁছে দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনকে অনুরোধ করেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর আশা, পূজামণ্ডপ কর্তৃপক্ষ এই সময়সূচি মেনে চলবেন।
জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য জালাল উদ্দীন, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল প্রমুখ।