খুলনায় পুলিশ পরিদর্শকের ওপর হামলার ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা। এ ঘটনার পর গতকাল শুক্রবার রাতে পুলিশ সদস্যদের একা চলাচল না করার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। হামলার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হলেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
শুক্রবার খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত এক আদেশে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে রূপসা, তেরখাদা, দিঘলিয়া ও বটিয়াঘাটা থানা এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে। এসব অভিযানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা সন্ত্রাসী হামলার শিকার হচ্ছেন।
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশেষ অভিযানসহ অন্যান্য দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং রাতে একা চলাচল না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইউনিট ইনচার্জদের বলা হয়েছে। সতর্কতামূলক আদেশের অনুলিপি পুলিশের বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে নগরের খানজাহান আলী রোডে খুলনা কলেজিয়েট স্কুলের সামনে ছিনতাইকারীদের ধারালো চাপাতির কোপে গুরুতর আহত হন পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলম (৪৩)। প্রথমে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইন হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন রিপন বলেন, পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) বাদী হয়ে শুক্রবার দিবাগত রাতে মামলা করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা তিন ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। ঢাকায় চিকিৎসাধীন ওই পুলিশ কর্মকর্তা এখনো শঙ্কামুক্ত নন।
খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক বলেন, পুলিশ কর্মকর্তারা যাতে এ ধরনের হামলার শিকার না হন, সে জন্য সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস, ভারপ্রাপ্ত) এম এম শাকিলুজ্জামান বলেন, পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে তাঁরা সচেতন রয়েছেন।