হোম > সারা দেশ > খুলনা

খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষার্থী আজমুল হত্যা: ব্যাংক ক্যাশিয়ার রিফাত গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা 

গ্রেপ্তার হাসনাত হাবিব রিফাত। ছবি: সংগৃহীত

খুলনায় নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আয়মান মো. আজমুল হোসেন হত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত হাসনাত হাবিব রিফাতকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৬ ও এসআরবি-৮-এর যৌথ আভিযানিক দল।

গ্রেপ্তার রিফাত খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের এফএমআরটি ডিসিপ্লিনের ১৬তম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন। কর্তমানে পেশায় তিনি একজন ব্যাংক কর্মকর্তা।

ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে আজমুলকে মারধরে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন রিফাত। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাঁকে শনাক্ত করা হয় বলে জানিয়েছে এসআরবি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এসআরবি-৬-এর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে পিরোজপুরের নেছারাবাদ থানাধীন কুড়িয়ানা-আদাবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে রিফাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার গুনেরগাতি এলাকার মনোয়ার হোসেনের ছেলে।

এসআরবি জানায়, গ্রেপ্তার রিফাত আজমুল হত্যাকাণ্ডে তাঁর সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরে তাঁকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) হরিণটানা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এসআরবি সূত্র জানায়, রিফাত কৃষি ব্যাংকের খুলনার টাউন নওয়াপাড়া শাখায় ক্যাশ অফিসার হিসেবে কর্মরত। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সময় আজমুলকে লাঠি দিয়ে দুটি আঘাত করার কথা স্বীকার করেছেন।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার গভীর রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল রোড-সংলগ্ন ইসলামনগর সড়কের একটি চারতলা ভবনের ছাদে আজমুলকে মারধর করা হয়। স্বজনদের দাবি, মারধরের একপর্যায়ে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।

ঘটনার পর পুলিশ ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি এসআরবিও ছায়া তদন্ত শুরু করে। সংস্থাটি ঘটনাস্থলের আশপাশের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে রিফাতকে শনাক্ত করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসআরবির একটি সূত্র জানায়, ভাত চুরি করে খাওয়ার অভিযোগে আজমুলকে নির্যাতন করা হয়েছিল—এমন দাবির সত্যতা এখনো পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর বিরুদ্ধে টাকা ও মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ ঘটনায় গত শনিবার রাতে নিহত আজমুলের বাবা কুতুবউদ্দিন বাদী হয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীসহ ২০ থেকে ২৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে হরিণটানা থানায় হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় এখন পর্যন্ত একজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।