হোম > সারা দেশ > খুলনা

কার্যালয় থেকে সাব-রেজিস্ট্রারকে অপহরণের গুঞ্জন, ফিরে এসে বললেন ‘কথা বলতে গিয়েছিলাম’

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা

মোটরসাইকেলে করে তন্ময় কুমার মণ্ডলকে নিয়ে যাওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত

খুলনা সদর সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয় থেকে সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মণ্ডলকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে যাওয়ার গুঞ্জন উঠেছে। ঘটনার প্রায় আধা ঘণ্টা পর তিনি নিজেই কার্যালয়ে ফিরে আসেন। তবে অপহরণের বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি দাবি করেছেন, একটি সমস্যার কথা বলে কয়েকজন তাঁকে কথা বলতে নিয়ে গিয়েছিলেন। এ ঘটনায় তিনি থানায় কোনো অভিযোগ করেননি।

আজ বুধবার দুপুরে খুলনা সদর থানার কাছাকাছি কেডি ঘোষ রোডে সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, তন্ময় কুমার মণ্ডল কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। এ সময় কয়েকজন মুখোশধারী ব্যক্তি অস্ত্রের মুখে তাঁকে বাইরে নিয়ে যান। পরে মোটরসাইকেলে করে তাঁকে পশ্চিম সদর হাসপাতাল রোডে নিয়ে একটি রিকশায় তুলে জেলখানা ঘাট এলাকার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।

কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একটি রিকশায় তন্ময় কুমার মণ্ডলকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। রিকশায় থাকা মুখে কাপড় বাঁধা এক ব্যক্তি তাঁর পেটে পিস্তল তাক করে রেখেছেন। রিকশাটির সামনে ও পেছনে দুটি মোটরসাইকেল ছিল। এ ছাড়া মুখোশধারী আরেকজনকে রিকশাটির পেছনে দৌড়াতেও দেখা যায়। রিকশাটি পশ্চিম সদর হাসপাতাল রোড দিয়ে জেলখানা ঘাটের দিকে চলে যায়। তবে কী কারণে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয় ও আশপাশে আতঙ্ক তৈরি হয়। পরে পুলিশ, সাংবাদিক ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেন। এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর তন্ময় কুমার মণ্ডল একাই কার্যালয়ে ফিরে আসেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তন্ময় কুমার মণ্ডল বলেন, ‘আমি কার্যালয় থেকে বাইরে বের হচ্ছিলাম। তখন তাঁরা একটি সমস্যার কথা বলেন। তাই কথা বলতে গিয়েছিলাম। তবে তাঁরা কারা, জানি না। তাঁরা আমাকে রিকশায় করে নদীর ঘাটে নিয়ে যান। সেখানে কিছু কথা বলে চলে আসি। আমাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি সত্য নয়।’

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁকে কিছুটা আতঙ্কিত দেখা যায় এবং তিনি এলোমেলোভাবে কথা বলছিলেন।

ঘটনাস্থলে থাকা সদর থানার এসআই জামাল উদ্দিন বলেন, ‘বেলা ৩টা ১০ মিনিটের দিকে সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মণ্ডলকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে—এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসি। সিসিটিভি ফুটেজে তাঁকে একটি রিকশায় নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। আমরা ঘটনাস্থলে থাকা অবস্থাতেই তিনি ফিরে আসেন। তিনি কোনো অভিযোগ দেবেন না বলে জানিয়েছেন।’

সদর থানার ওসি লোকমান হোসেন রিপন বলেন, কাগজপত্র দেখানোর কথা বলে সাব-রেজিস্ট্রারকে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে খুলনা নিউমার্কেট এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি রহস্যজনক হওয়ায় অনুসন্ধান চলছে। ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে অফিসপাড়ায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, তিনিও বিষয়টি শুনেছেন। তবে অভিযোগ পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ঘটনার পর তন্ময় কুমার মণ্ডল বিকেল ৫টা পর্যন্ত কার্যালয়ে ছিলেন। পরে তাঁর পরিবারের সদস্যরা এসে তাঁকে বাসায় নিয়ে যান।