খুলনায় গত এক সপ্তাহ সিলিন্ডার গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। খুলনার গ্যাস ব্যবসায়ীরা বলছেন, সামনে এ সংকট আরও প্রকট হতে পারে। আজ মঙ্গলবার খুলনার বিভিন্নস্থান ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
ব্যবসায়ীরা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে খুলনার বাজারে। গত এক সপ্তাহ বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিরা দোকানগুলোতে গ্যাস দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। আবার সংকটের বিষয়টি আগে থেকে আন্দাজ করতে পেরে অনেক দোকানি অতিরিক্ত গ্যাস সিলিন্ডার মজুত করে রেখেছেন।
নগরীর পশ্চিম টুটপাড়া এলাকার এলপিজি গ্যাস ব্যবসায়ী নুর আলম বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এখনো থামেনি। কোম্পানিগুলো গ্যাস তৈরির মূল রসদ আনতে পারছে না। যে কারণে গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না তারা। সংকট তৈরি হয়েছে সিলিন্ডার গ্যাসের। ব্যবসায়ীরা চাহিদা মোতাবেক গ্যাস পাচ্ছেন না এবং বিক্রিও করতে পারছেন না।
মিস্ত্রিপাড়ার গ্যাস বিক্রেতা মারুফ হাসান বলেন, প্রথমে যমুনা কোম্পানি এর পর বসুন্ধরা, ওমেরা, আইসহ অন্যান্য গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ করে দেয় কোম্পানির প্রতিনিধিরা। গ্যাসের সংকট থাকায় ক্রেতারা ফিরে যাচ্ছেন।
খুলনায় বিভিন্ন গ্যাস কোম্পানির এজেন্টরা জানান, চাহিদার তুলনায় ১০ শতাংশ গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন এজেন্ট বলেন, বৈশ্বিক সংকটের কারণে অনেক কোম্পানি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। বাজারে তাদের কোনো সাপ্লাই নেই। তবে সরকারের নির্ধারিত দামেই গ্যাস বিক্রি করা হচ্ছে।
আহসান আহমেদ রোডে কথা হয় ক্রেতা আব্দুর রমিমের সঙ্গে। তিনি বলেন, গত এক সপ্তাহ বাজারে গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। সরকার গ্যাসের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও ব্যবসায়ীরা এখন তা ১ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি করছেন।
আরেক ক্রেতা গোলাম রসুল বলেন, আমরা এখন হয়েছি শখের করাত। যেদিকে যাব সেদিকে আমাদের বিপদ। গ্যাসের সংকটের কথা বলা হলেও নগরীর কয়েকজন ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের জন্য গোডাউনে অনেক গ্যাস মজুত রেখেছেন।