হোম > সারা দেশ > গাজীপুর

আন্দোলনে যোগ দিতে অন্য কারখানার সামনে শ্রমিকদের ডাক, পুলিশের টিয়ার শেল

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি  

আরেকটি কারখানার শ্রমিকদের যুক্ত হতে সেখানে জড়ো হলে পুলিশ টিয়ারশেল-সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করে শ্রমিকদের। ছবি: আজকের পত্রিকা

দ্বিতীয় দিনের মতো বকেয়া বেতনের দাবিতে আন্দোলন করছেন গাজীপুরের কোনাবাড়ীর হানিওয়েল গার্মেন্টস লিমিটেড কারখানার শ্রমিকেরা। তাঁদের আন্দোলনে যুক্ত হতে পাশের পি এন নিট কম্পোজিট লিমিটেডের শ্রমিকদের অনুরোধ জানিয়ে ওই কারখানার গেটের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে তাঁদের ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেয় পুলিশ। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

আজ মঙ্গলবার সকালে কোনাবাড়ী থানাধীন আমবাগ মিতালি ক্লাব এলাকায় অবস্থিত হানিওয়েল গার্মেন্টস লিমিটেড কারখানার শ্রমিকেরা গত দুই মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে মিতালী ক্লাব থেকে কোনাবাড়ী নতুন বাজার আঞ্চলিক সড়ক দ্বিতীয় দিনের মতো অবরোধ করেন।

স্থানীয় শ্রমিক ও শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ না করায় তাঁরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। নির্ধারিত সময়েও বেতন না পেয়ে বারবার কারখানা বন্ধের নোটিশে অসন্তোষের কারণে সকাল থেকেই শ্রমিকেরা কারখানার আশপাশে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে তাঁরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রাস্তা অবরোধ করেন। পরে দুপুর পৌনে ১২টার সময় আমবাগ এলাকায় অবস্থিত অন্য একটি গার্মেন্টস পি এন নিট কম্পোজিট লিমিটেডের শ্রমিকদের তাঁদের সঙ্গে আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার জন্য ওই কারখানার সামনে গিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন হানিওয়েল গার্মেন্টসের শ্রমিকেরা। এ সময় শিল্প পুলিশ বাধা দেয়। এতে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের কথা-কাটাকাটি হয় এবং একপর্যায়ে পুলিশ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বর্তমানে হানিওয়েল গার্মেন্টসের শ্রমিকেরা কারখানার আশপাশে অবস্থান করছেন।

আন্দোলনরত শ্রমিকেরা বলেন, ‘আমাদের বেতন দেওয়ার কথা ১০ তারিখে, আজকে ২২ তারিখ, তা-ও বেতন দিচ্ছে না। আমরা রুমভাড়া, দোকানের বকেয়া কীভাবে দেব।’ তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পুলিশও আমাদের কোনো সহযোগিতা করছে না।’

এ বিষয়ে জানতে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ফোন রিসিভ না করার কারণে বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, কোনাবাড়ীতে একটি কারখানার পোশাকশ্রমিকেরা বকেয়া বেতনের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করেন। পরে পার্শ্ববর্তী অন্য একটি কারখানায় হামলা করতে গেলে পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাস্থলে শিল্প পুলিশের পাশাপাশি জিএমপি পুলিশ অবস্থান করছে।