গাজীপুরের শ্রীপুরে দুই শিশুসন্তানের সামনে তাদের মাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে মো. সোহরাব নামে এক পান ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পানের আড়তে কাজ করা গৌতম ও শহীদ নামে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়েছে পুলিশ। অভিযুক্ত সোহরাবকে পাওয়া যায়নি।
‘সাড়ে চার বছর বয়সী আমার ছেলেডা সব বুঝে। তারে আমার বুক থেইক্যা কাইড়া নিয়া আমার সঙ্গে খারাপ কাজ করছে। আমি কানছি, কিন্তু আমারে ছাড়ে নাই’—আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা চৌরাস্তায় কাঁদতে কাঁদতে এভাবেই অভিযোগ করেন ২৭ বছর বয়সী ওই নারী।
দুই সন্তানের জননী ওই নারী পেশায় ভিক্ষুক। তাঁর বাড়ি শ্রীপুর উপজেলার একটি গ্রামে।
নারীর ভাষ্য, গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি দুই সন্তানকে নিয়ে মাওনা চৌরাস্তায় উড়ালসড়কের নিচে বসেছিলেন। ওই সময় সোহরাব নামে এক পান ব্যবসায়ী আশ্রয় ও টাকার ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাঁকে মাওনা চৌরাস্তার পূর্ব পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে সোহরাব তাঁকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।
নারী জানান, বছরখানেক আগে তাঁর স্বামী তাঁকে ছেড়ে চলে যান। এরপর তিনি শ্রীপুরের জৈনাবাজার কলেজ রোড এলাকায় ভাড়া বাসায় দুই সন্তানকে নিয়ে থাকতেন। কয়েক মাসের ভাড়া বকেয়া থাকায় গত মঙ্গলবার বাড়ির মালিক তাঁকে ঘর থেকে বের করে দেন।
ঘটনার পর স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছে বিচার চেয়েছিলেন বলে জানান ওই নারী। তাঁর দাবি, বিচার না করে তাঁরা তাঁকে ৫০০ টাকা দিয়ে বিদায় করতে চেয়েছিলেন। পরে আরও কয়েকজনের কাছে গিয়েও বিচার না পেয়ে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় তাঁর শিশুসন্তান আহত হয়।
লোকজন দেখতে পেয়ে তাঁকে সেখান থেকে পানের আড়ৎ এলাকায় নিয়ে আসেন। আজ বৃহস্পতিবার মাওনা চৌরাস্তার পানের আড়তে গিয়ে দেখা যায়, এক শিশুসন্তানকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন ওই নারী। সেখানে শ্রীপুর থানার পুলিশের তিন সদস্য উপস্থিত হন। পুলিশ পরে দুজনকে থানায় নিয়ে যায়। ওই নারীকেও সঙ্গে নেওয়া হয়।
জৈনাবাজার কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা মো. মুরাদ হোসেন নারীর ছবি দেখে বলেন, কয়েক মাস ধরে ওই নারীকে জৈনাবাজার এলাকায় দেখা গেছে। কলেজ রোড এলাকার কোনো বাসায় তিনি ভাড়া থাকতে পারেন।
পানের আড়ৎদার মহসিন আলী বলেন, সোহরাব কয়েক বছর ধরে সেখানে ব্যবসা করেন। ঘটনা নিয়ে আলোচনা শুরু হলে তিনি পালিয়ে যান। নারীর অভিযোগের কথা তাঁরা শুনেছেন।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’