হোম > সারা দেশ > গাজীপুর

নিয়ন্ত্রণে এলেও পুরোপুরি নেভেনি টঙ্গীর ওষুধ কারখানার আগুন

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি  

চার ঘণ্টা পর ওষুধ কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস। ছবি: আজকের পত্রিকা

ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিটের প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও পুরোপুরি নিভতে কাল বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ। আজ বুধবার টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকায় ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের একটি ওষুধ উৎপাদনকারী কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সকাল ১০টার দিকে লাগা এ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেলা ১টা ৫৫ মিনিট বেজে যায়। অগ্নিকাণ্ডে কারখানার দুটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনায় একজন ফায়ার সার্ভিসকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।

পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল ১০টার দিকে কারখানার চারতলা ভবনের ছাদে প্রথমে আগুন দেখা যায়। পরে আগুন দ্রুত ভবনের অন্যান্য তলায় ছড়িয়ে পড়ে।

আগুন নেভাতে টঙ্গী ফায়ার স্টেশনের তিনটি, উত্তরা ফায়ার স্টেশনের তিনটি, গাজীপুর চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার স্টেশনের চারটি, কুর্মিটোলা ফায়ার স্টেশনের চারটি, রাজেন্দ্রপুর ফায়ার স্টেশনের দুটি এবং পূর্বাচল ফায়ার স্টেশনের তিনটি ইউনিট কাজ করে। মিরপুর থেকে একটি হ্যাজম্যাট টেন্ডারও (অগ্নিনির্বাপণ ও জরুরী উদ্ধার কাজে ব্যবহৃত বিশেষায়িত গাড়ি) ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।

সেনাবাহিনীর সদস্যরা দুপুরে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও ফায়ার সার্ভিসকে সহযোগিতায় যোগ দেন। বেলা ১টা ১৩ মিনিটের দিকে আইএসপিআরের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সামি-উদ-দৌলা চৌধুরী এ তথ্য জানান। বিজিবির সদস্যরাও আগুন নেভানো ও নিরাপত্তার কাজে অংশ নেন।

কারখানার সিনিয়র ম্যানেজার (অ্যাডমিন) শহিদুল ইসলাম বাদল জানান, কারখানার ইউনিট-২-এর চতুর্থ তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন দ্রুত কারখানার বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ওষুধ কারখানাটির দুটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শহিদুল ইসলাম বাদল বলেন, যেখানে আগুন লেগেছে, সেটি একটি অ্যান্টিবায়োটিক প্ল্যান্ট। সেখানে ড্রাই সিরাপ ও অ্যান্টিবায়োটিক ক্যাপসুল মোড়কজাত করা হয়। সেখানে কোনো ধরনের দাহ্য পদার্থ ছিল না। আগুন ভবনের ওপরের দিকে লাগায় শ্রমিক-কর্মচারীরা দ্রুত নিরাপদে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন। এ কারণে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভানোর কাজ করেছেন। পরে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে। আগুনে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

জেলা প্রশাসক বলেন, চারতলা থেকে একটি লোহার সিঁড়ি ভেঙে একজন ফায়ার সার্ভিসকর্মীর ওপর পড়লে তিনি গুরুতর আহত হন। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সোলতানুর আফরিন জুনায়েদ বলেন, ‘আগুন সম্পূর্ণভাবে নেভাতে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং কী কারণে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, তা তদন্তের পর জানা যাবে। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন সহায়তা করেছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা আসমা বেগম বলেন, ভাড়াবাড়িতে দৈনন্দিন কাজে ব্যস্ত থাকার সময় হঠাৎ কালো ধোঁয়ায় চারপাশ ছেয়ে যায় এবং আগুন ছড়িয়ে পড়তে থাকে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভয় পেয়েছিলেন তিনি।

আসমা বেগম বলেন, ধোঁয়া ও আগুন দেখে আতঙ্কিত হয়ে লোকজন ছোটাছুটি শুরু করে। পরে সবাই স্বজনদের খোঁজ করতে থাকে। এ সময় আশপাশের বস্তিবাসীসহ স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা রাহেলা বেগম বলেন, তাঁর সন্তান দৌড়ে এসে আগুন লাগার খবর জানায়। আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ছোটাছুটি শুরু হয়। আগুন ও কালো ধোঁয়া ছাড়া কিছুই দেখা যাচ্ছিল না।

রাহেলা বেগম বলেন, ‘আমাদের এদিকে আগুন লাগলে যাওয়ার কোনো জায়গা ছিল না।’