বাংলাদেশ ব্লেড ফ্যাক্টরি লিমিটেডের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, চক্রান্তকারীরা চায় যেন দেশে সরকারি প্রতিষ্ঠান টিকে না থাকে। প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্টদের খেয়াল রাখতে হবে, কোনো অশুভ শক্তির কাছে এই প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়ন যেন বন্ধ না হয়ে যায়। শুধু অফিস টাইম শেষ করলে হবে না। প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা ও উৎপাদন অগ্রগতি লাভের মাধ্যমে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
আজ শনিবার বেলা ৩টার দিকে গাজীপুরের টঙ্গীতে বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের অধীন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্লেড ফ্যাক্টরি লিমিটেডে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে বেসরকারি ও সরকারি প্রতিষ্ঠান সমান তালে পরিচালিত হয়। ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতির মুখে পড়লে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সহযোগিতা করা প্রয়োজন। বিদেশি প্রযুক্তি ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এই ব্লেড কারখানাকে একটি আধুনিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের চেয়ারম্যান আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. রাশিদুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, ৫২ কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে আধুনিকায়ন করা কারখানাটিতে বছরে আট কোটি রেজর ব্লেড ও এক কোটি ডিসপোজেবল রেজর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় পুরোনো যন্ত্রপাতি আধুনিকায়নের পাশাপাশি ‘সর্ড প্রিমিয়াম’, ‘সর্ড স্মার্ট টু’ ও ‘সর্ড স্মার্ট থ্রি’ নামে নতুন তিন ধরনের পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রম দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ, আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং ভবিষ্যতে রপ্তানির মাধ্যমে অর্থনীতিতে অবদান রাখতে সহায়তা করবে।
তাঁদের মতে, কারখানাটির পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগানো গেলে দেশীয় বাজারে আমদানির বিকল্প পণ্যের সরবরাহ বাড়বে এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজার গড়ে উঠবে। পাশাপাশি, আমদানি ব্যয় কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং দেশের শিল্প খাতের বিকাশেও প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।