ফেনীতে ভাশুরকে ফাঁসাতে মিথ্যা ‘ধর্ষণ’ মামলা করার দায়ে এক নারী ও তাঁর স্বামীকে সাড়ে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ এ এন এম মোরশেদ খান এই রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা পরশুরাম উপজেলার বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় তাঁরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে ২০২২ সালের মে মাসে স্বামীর বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন এক নারী। সেখানে ভাশুরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনেন তিনি। ওই নারী তাঁর ঘরে জন্ম নেওয়া শিশুর বাবা তাঁর স্বামী নন, বরং ভাশুর বলে দাবি করেন। মামলাটি আমলে নিয়ে আদালত পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, শিশুটির বাবা ওই ভাশুর নন। শিশুটির বাবা ওই নারীর স্বামীই। পরে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে পিবিআই তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়ে ভাশুরের বিরুদ্ধে করা নারীর অভিযোগটি মিথ্যা বলে উল্লেখ করে। পরবর্তী সময় ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে আদালতের নির্দেশে সিআইডি আবার ডিএনএ পরীক্ষা করে। সেখানেও একই ফলাফল আসে। পরে ওই বছরের অক্টোবরে মামলা থেকে অব্যাহতি পান ওই ভাশুর। পরবর্তীকালে মিথ্যা মামলার অভিযোগ তুলে ২০২৪ সালে ওই ভাশুর তার ছোট ভাই ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে দুজন ও আসামিপক্ষে পাঁচজনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে গত বছরের ১ ডিসেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। সোমবার এ মামলার রায় ঘোষণা করে দম্পতিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট শাহাব উদ্দিন আহাম্মদ, অ্যাডভোকেট আহসান কবীর বেঙ্গল, অ্যাডভোকেট মাসুদুর রহমান ও অ্যাডভোকেট খালেদ মো. আরিফ। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট শাহ মো. কায়কোবাদ।
এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শাহাব উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট। মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে এ রায় নজির হয়ে থাকবে।