হোম > সারা দেশ > ফরিদপুর

পালিয়ে বিয়ের ২ মাস পর কিশোরীর লাশ হাসপাতালে রেখে পালালেন স্বামী

ফরিদপুর প্রতিনিধি

স্বামীর সঙ্গে লামিয়ার হাস্যোজ্জ্বল মুহূর্ত। ছবি: সংগৃহীত

মাত্র দুই মাস আগে প্রেমিকের হাত ধরে ঘর ছেড়েছিল ১৫ বছর বয়সী কিশোরী লামিয়া আক্তার। এরপর পরিবারের অমতেই বিয়ে করে ভাড়া বাসায় সংসারও বাঁধে। সেই ঘরেই স্বামী, শাশুড়ির নির্যাতনে তার মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল রোববার দিবাগত রাত ১০টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে তার মৃতদেহ দেখতে পায় পরিবারের সদস্যরা। জানা যায়, হাসপাতালে মৃতদেহ রেখে পালিয়ে গেছে তার স্বামী রনি শেখ।

আজ সোমবার মরদেহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। দুপুরে হাসপাতালের মর্গের সামনে বসে থাকতে দেখা যায় পরিবারের সদস্যদের।

নিহত লামিয়া ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদি সাহাপাড়া গ্রামের লিটু মাতুব্বরের মেয়ে ৷

পরিবার সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় মুনসুরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেনীর শিক্ষার্থী ছিল লামিয়া। ওই বিদ্যালয়ের যাওয়া আসার সময় গ্যারেজ মিস্ত্রী রনি শেখের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। রনি একই উপজেলার কাপুড়িয়া সদরদি এলাকার সোবহান শেখের ছেলে। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। সেই সুবাদে গত ২০ জুলাই রনির সঙ্গে পালিয়ে যায় লামিয়া এবং দুজনে বিয়ে করে।

এরপর দুই পরিবার তাদের বিয়ে মেনে নেয়। মাত্র এক সপ্তাহ আগে মুনসুরাবাদ এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে সংসার শুরু করে লামিয়া ও রনি। এরপর থেকে ওই বাসায় শ্বাশুড়ি ও স্বামী মিলে লামিয়াকে দুই দফায় নির্যাতন করা হয় বলে লামিয়ার নানা আব্দুল ওয়াদুদ খালাসি অভিযোগ করেন।

ওয়াদুদ খালাসি বলেন, ‘আমার নাতনিকে গলাটিপে মেরে ফেলা হয়েছে। ওর গলায় হাতের আঙ্গুলের দাগ ও মুখে মারধরের আঘাত রয়েছে। ওরে মেরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে রেখে আত্মহত্যা করেছে বলে আমাদের খবর দেয় রনির মা। সঙ্গে সঙ্গে রাতেই হাসপাতালে গিয়ে দেখি আমার নাতির লাশ পড়ে আছে, সেখানে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন কেউ ছিল না। ওর লাশ হাসপাতালে রেখেই তাঁরা পালিয়ে গেছে।’

এ ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে সুষ্ঠু তদন্ত করার দাবি জানান লামিয়ার পরিবারের সদস্যরা। এ ছাড়া স্বামী রনিকে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সকালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে আসলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন হবে। এ ছাড়া পরিবারের কেউ এখনো অভিযোগ করেনি, অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।