হোম > সারা দেশ > ফরিদপুর

মাতৃত্বকালীন ভাতার টাকা ইউপি সদস্যের বিকাশ নম্বরে, কারিগরি ত্রুটির দাবি

ফরিদপুর প্রতিনিধি

সংবাদ সম্মেলনে ইউপি সদস্য নান্নু মোল্যা। ছবি: আজকের পত্রিকা

ফরিদপুর সদরের কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. নান্নু মোল্যার বিকাশ নম্বরে এক নারীর মাতৃত্বকালীন ভাতার টাকা আসার ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি দাবি করেন, আবেদনের সময় কারিগরি ত্রুটিতে তাঁর নম্বর ব্যবহার করা হয়েছিল। পরে সব টাকা উপকারভোগীকে ফেরত দিয়ে তাঁর হিসাব নম্বর সংশোধন করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মো. নান্নু মোল্যা বলেন, উপকারভোগী রুপা বেগম তাঁর নিকটাত্মীয়। তিনি একই ওয়ার্ডের কাচারদিয়া গ্রামের আসলাম শেখের স্ত্রী।

মো. নান্নু মোল্যা জানান, রুপা বেগম মাতৃত্বকালীন ভাতার কথা বললে তিনি তাঁকে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা ওমর ফারুকের কাছে পাঠান। আবেদনের সময় কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় তাঁর (নান্নু মোল্যার) নম্বর দিয়ে আবেদন করা হয়।

মো. নান্নু মোল্যা বলেন, ‘মাতৃত্বকালীন ভাতার জন্য প্রতি মাসের ২০ তারিখ পর্যন্ত আবেদন করা হয়। ওই মাসের আবেদনের শেষ সময়ে আবেদনটি করার সময় রুপার ব্যাংক হিসাব নম্বর দিলে বারবার লেখা আসে, এই হিসাব দিয়ে আগে আবেদন করা হয়েছে। তখন আমি উদ্যোক্তাকে অনুরোধ করি, যেভাবেই হোক এটি করে দিতে হবে। পরে রুপার বিকাশ নম্বর না থাকায় আমার নম্বর দিয়ে আবেদন করা হয় এবং আবেদনটি সফল হয়। সেটি আমিও জানতাম না।’

মো. নান্নু মোল্যা আরও বলেন, ‘এরপর আমার বিকাশে টাকা আসায় দ্রুত সংশোধন করে দিতে বলি। সংশোধনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বারবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে গত ২৮ জুন আমি নিজেই মহিলা অধিদপ্তরে আবেদন করে রুপার হিসাব নম্বর দিয়ে সংশোধন করে দিয়েছিলাম।’

মো. নান্নু মোল্যার দাবি, সংশোধনের সময় প্রতি মাসে তাঁর বিকাশে ৮৫৫ টাকা করে আসতে থাকে। ছয় মাসের টাকা জমা হলে ইউনিয়ন পরিষদের ভাউচারের মাধ্যমে ওই নারীকে পুরো টাকা ফেরত দেওয়া হয়। এরপর থেকে রুপা বেগমের হিসাবেই টাকা যাচ্ছে।

নান্নু মোল্যা বলেন, ‘সামনে নির্বাচনকে সামনে রেখে আমার বিরুদ্ধে মাতৃত্বকালীন ভাতার টাকা আত্মসাতের মতো অভিযোগ এনে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এতে আমাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়েছে।’

ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা ওমর ফারুকও বিষয়টি জানান। উপকারভোগী রুপা বেগম বলেন, আবেদনের সময় তাঁর ব্যাংক হিসাব নম্বর দিয়ে আবেদন করা যাচ্ছিল না। বিকাশ নম্বর না থাকায় তাঁকে জানিয়েই ইউপি সদস্যের বিকাশ নম্বর ব্যবহার করা হয়েছিল।

রুপা বেগম বলেন, ‘পরে সদস্য নিজেই আমার হিসাব ঠিক করে দিয়েছেন এবং বর্তমানে টাকাও আসছে। এটা নিয়ে এত কিছু হয়ে গেছে, আমিও জানি না।’

কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম বাদশা মিয়া বলেন, ‘ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গেই আমি উপকারভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি আমাকে জানান, সব টাকা তাঁকে ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং সংশোধন করে তাঁর ব্যাংক হিসাব নম্বর দিয়ে ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। কারিগরি ত্রুটির কারণেই এই সমস্যাটি হয়েছে। তারপরও আমি সবাইকে সতর্ক করে দিয়েছি, এ ধরনের অনিচ্ছাকৃত ভুলও করা যাবে না।’