হোম > সারা দেশ > ফরিদপুর

চলন্ত মাইক্রোবাসে কিশোরীকে ধর্ষণ, দুই যুবকের যাবজ্জীবন

ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুর জজ কোর্ট। ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে চলন্ত মাইক্রোবাসে ১৫ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় মোহন বিশ্বাস ও তায়েব মাতুব্বর নামের দুই যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁদের প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

আজ সোমবার দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবং জেলা জজ শামীমা পারভীন এ রায় দেন।

রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত মোহন বিশ্বাস (২০) ও তায়েব মাতুব্বর (২১) পলাতক ছিলেন। আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। মোহন ও তায়েব ভাঙ্গা উপজেলার হোগলাকান্দী গ্রামের বাসিন্দা।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কিশোরীটি ভাঙ্গা উপজেলার একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। মাদ্রাসায় যাতায়াতের পথে একই এলাকার মোহন বিশ্বাস তাকে উত্ত্যক্ত করতেন। একপর্যায়ে মোহন কিশোরীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন।

প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ২০২০ সালের ৮ আগস্ট বিকেলে বাড়ির সামনের সড়ক থেকে মোহন বিশ্বাস ও তাঁর সহযোগী তায়েব মাতুব্বর ওই কিশোরীকে জোর করে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। মাইক্রোবাসের ভেতরে মোহন ও তায়েব কিশোরীকে ধর্ষণ করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়।

রাতে খাড়াকান্দি এলাকায় অসুস্থ অবস্থায় কিশোরীকে মাইক্রোবাস থেকে নামিয়ে দিয়ে তাঁরা চলে যান। কিশোরী বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায়।

পরদিন কিশোরীকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে ভাঙ্গা থানায় মামলা করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মো. ইলিয়াস হোসাইন ২০২১ সালের ৩ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ সাক্ষ্য ও শুনানি শেষে আদালত আজ রায় ঘোষণা করেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাঁদের সাজা দিয়েছেন। এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।