হোম > সারা দেশ > ফরিদপুর

ফরিদপুরে ১১ মাস পর নিলামে কেনা জমির দখল ফিরে পেলেন মালিক

ফরিদপুর প্রতিনিধি

ঢাক-ঢোল পিটিয়ে জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হলো প্রকৃত মালিককে। ছবি: আজকের পত্রিকা

ফরিদপুরে ব্যাংক ঋণ ও নিলামের তথ্য গোপন করে জমি দখলের অভিযোগের ১১ মাস পর নিলামে কেনা জমি ফেরত পেয়েছেন রুবেল হোসেন দুলাল। আজ রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে শহরের রঘুনন্দনপুরে তাঁকে ৬৯ দশমিক ৫ শতক জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশে লাল পতাকা টানিয়ে সীমানা নির্ধারণ এবং ঢোল পিটিয়ে জমি হস্তান্তর করা হয়।

২০২১ সালে ফরিদপুরের দি প্রিমিয়ার ব্যাংক থেকে নিলামের মাধ্যমে জমিটি কেনেন জেলা সদরের ডিক্রিরচর ইউনিয়নের বাসিন্দা রুবেল হোসেন দুলাল। জমিটি পৌরসভার ১২৮ নম্বর রঘুনন্দনপুর মৌজায় অবস্থিত। জমি কেনার পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবেল হোসেন দুলালকে দখল বুঝিয়ে দেন।

জমিটির বন্ধক-সংক্রান্ত ঋণগ্রহীতা ছিলেন আরিফুর রহিম গং। পরে তাঁরা ব্যাংক ঋণ ও নিলামের তথ্য গোপন করে আদালতে মামলা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ওই মামলায় ১১ মাস আগে তাঁদের এক পক্ষকে একই পদ্ধতিতে জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

রুবেল হোসেন দুলাল পরে আদালতে পুনরায় আবেদন করেন। তাঁর আবেদনের পর তদন্ত শেষে গত ২৩ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর সদর আদালতের সিভিল জজ মো. সালাউদ্দিন জমিটির প্রকৃত মালিক হিসেবে রুবেল হোসেন দুলালকে দখল বুঝিয়ে দেওয়ার আদেশ দেন। আদেশে ১৫ দিনের মধ্যে তা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়।

রুবেল হোসেন দুলাল বলেন, ‘২০২১ সালে প্রিমিয়ার ব্যাংক নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এবং সে অনুযায়ী আমি বিড করি। ওই সময়ে ৯ জনের মধ্যে আমি জয়ী হই। কিন্তু ১১ মাস আগে জমির বন্ধকদাতা আরিফুর রহমান গংয়ের চার ভাই নাটকীয়ভাবে বাদী-বিবাদী সেজে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।’

রুবেল হোসেন দুলাল আরও বলেন, ‘তাঁরা আদালতে ব্যাংক ঋণের তথ্য গোপন করে এক পক্ষ জমিটির দখল নিয়ে নেয়। কিন্তু আমি আদালতে আবেদন করি এবং ব্যাংকের তথ্য গোপন করার বিষয়টি আদালতে প্রমাণ করতে সক্ষম হওয়ায় আজ আমার জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি ন্যায়বিচার পেয়েছি।’

সরেজমিনে দেখা যায়, জমিটি জলাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। জমির এক পাশ দিয়ে একটি পাকা সড়ক গেছে। সড়কের ওপর লোকসমাগমের মাধ্যমে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

একপর্যায়ে বাঁশে লাল কাপড় টানিয়ে জমির সীমানা নির্ধারণ করা হয়। পরে ঢোল পিটিয়ে জমিটি বুঝিয়ে দেন জেলা জজ আদালতের নাজির এ কে এম রফিক উদ্দিন।

এ কে এম রফিক উদ্দিন বলেন, ‘জমিটির নিলাম ক্রেতা বা প্রকৃত মালিক দখলনামা দিলে আদালত তদন্ত করে সত্যতা পেয়েছে। পরবর্তীতে সদর আদালতের সিভিল জজ জমিটি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য আমাকে ১৫ দিনের মধ্যে বাস্তবায়নের নির্দেশ দিলে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।’