হোম > সারা দেশ > ফরিদপুর

ফরিদপুরে জমির দখল নিতে সাদা কাগজে স্বাক্ষর, অভিযোগ অস্বীকার কৃষক দল নেতার

ফরিদপুর প্রতিনিধি

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহদপ্তর সম্পাদক অ্যাড. সোলায়মান হোসাইন। ছবি: আজকের পত্রিকা

ফরিদপুরে জমি দখলে নিতে সালিস-মীমাংসায় জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয় একটি পরিবারের। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সে দৃশ্যের ভিডিও পরিবারটি সাংবাদিকদের হস্তান্তরও করে। এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে আজ রোববার পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহদপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট সোলায়মান হোসাইন। তাঁর দাবি, সালিসে সবার সম্মতিতে সিদ্ধান্ত লেখার পর স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

সোলায়মান হোসাইন ফরিদপুর সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের নিখুরদি গ্রামের বাসিন্দা মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে।

লিখিত বক্তব্যে সোলায়মান হোসাইন দাবি করেন, তাঁর বাবার মৃত্যুর পর পৈতৃক সম্পত্তি কৌশলে দখলে নেন প্রতিবেশী আলতাফ হোসেন। সম্পর্কে তিনি সোলায়মান হোসাইনের দাদা ইসমাইল হোসেনের আপন ভাই। পরে তাঁদের ওই জমি থেকে উচ্ছেদ করে দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, বিরোধপূর্ণ ওই জমি ১৯৯২ সালের ১১ জানুয়ারি তাঁর দাদা ইসমাইল হোসেন বাবা ইয়াকুব আলীকে সাফ কবলামূলে দলিল করে দিয়েছিলেন। এরপর পৈতৃক সেই জমি বুঝে নিতে গেলে দাদা আলতাফ হোসেনদের সঙ্গে বিরোধ শুরু হয়।

তবে গত বৃহস্পতিবার ফরিদপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে আলতাফ হোসেনের দেওয়া কাগজপত্রে দাবি করা হয়, বিরোধপূর্ণ জমি ১৯৯১ সালের ২৪ ডিসেম্বর সোলায়মান হোসাইনের দাদা ইসমাইল হোসেন তাঁর কাছে বিক্রি করে দেন। যার দলিল নম্বর ৬৭৪৫ এবং যা ২০২৩ সালের ভূমি প্রতিরোধ আইনে করা মামলায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে সত্যতা পাওয়া যায় বলে দাবি করেন। ওই সংবাদ সম্মেলনে ‘জমি লিখে না দিলে কবরও দিতে দেবে না কৃষক দল নেতা’—এমন অভিযোগ করেন আলতাফ হোসেন। এ ছাড়া দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নানাভাবে হয়রানির বিষয়ও তুলে ধরেন।

পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে সোলায়মান আজ একটি সালিসের বিষয় তুলে ধরে বলেন, ‘পৈতৃক সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার দাবিতে ২০২৫ সালের ২৩ জুন আমার বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। ওই সময় সাংবাদিকদের সামনেই আমার ও আমার পরিবারের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করা হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে ওই বছরের ১২ জুলাই সালিস ডাকা হয়। যেখানে তারা স্বেচ্ছায় গিয়েছিল এবং সালিসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমাকে ১৫ শতক জমি দখল বুঝিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় এবং উভয় পক্ষই স্বাক্ষর করে।’

এদিকে আলতাফ হোসেনের ছেলে ইউসুফ হোসেন নূর দাবি করেন, ওই সালিসে তাঁদের ধমকিয়ে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বকভাবে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। সে সালিসে গোপনে ধারণ করা একটি ভিডিও হস্তান্তর করেন তিনি। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, সালিসের এক কোণে বসে ছিলেন আলতাফ হোসেন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। একপর্যায়ে তাঁদের সাদা কাগজে স্বাক্ষর করতে বলা হয় এবং বিষয়টি নিয়ে আদালতে যেতে চাইলে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। তখন ইউসুফ হোসেন নূরকে ধমকাতে থাকেন মোহাম্মদ আলী চোকদার নামের এক ব্যক্তি। তখন তিনি বলতে থাকেন—‘আমরাতে মজলুম, আমাদের ধইর‍্যা মারেন।’ একপর্যায়ে সাদা কাগজে উভয় পক্ষ ও উপস্থিত ব্যক্তিদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

এদিকে ভিডিওটি এডিট করা বলে দাবি করেন কৃষক দল নেতা সোলায়মান হোসাইন। তিনি সংবাদ সম্মেলন ও বিরোধকে অরাজনৈতিক দাবি করলেও উপস্থিত ছিলেন পার্শ্ববর্তী কৈজুরী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোহাম্মাদ আলী প্রামাণিক, স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলী চোকদারসহ পরিবারের সদস্যরা।