হোম > সারা দেশ > ফরিদপুর

ভেজাল শিশুখাদ্য-অবৈধ যৌন উত্তেজক তৈরি: কারাদণ্ডের পর এনসিপি নেতা বহিষ্কার

ফরিদপুর প্রতিনিধি

বহিষ্কৃত এনসিপি নেতা বায়েজিদ হোসেন শাহেদ। ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুর শহরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতার অবৈধ ওষুধ তৈরি ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় অভিযান চালিয়েছে যৌথ বাহিনী। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট ১ নম্বর সড়ক এলাকায় অবস্থিত ‘জনতা আয়ুর্বেদিক ল্যাবরেটরিজ’ নামক কারখানায় জেলা প্রশাসন ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভেজাল আয়ুর্বেদিক ওষুধ, শিশু খাদ্যপণ্য, ক্ষতিকর কেমিক্যাল এবং যৌন উত্তেজক ওষুধ ও কাঁচামাল জব্দ করা হয়। প্রশাসন জানিয়েছে, জব্দ করা এসব অননুমোদিত পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় তিন লাখ টাকা।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, কোনো ধরনের অনুমোদিত কেমিস্ট ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই কারখানাটি পরিচালিত হচ্ছিল। এখান থেকে উৎপাদিত ভেজাল ওষুধ ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হতো, যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

ফরিদপুরে এনসিপি নেতার অবৈধ ওষুধ কারখানায় যৌথ বাহিনীর অভিযান। ছবি: সংগৃহীত

অভিযানের সময় জিল্লুর রহমান নামের এক কর্মচারীকে আটক করা হয়। পরে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইনে ভেজাল পণ্য সংরক্ষণের দায়ে তাঁকে ২০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া, ভবনটিতে থাকা অবৈধ যন্ত্রপাতি সরিয়ে নেওয়ার জন্য ভবনের মালিককে সাত দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার মো. সাকিব রহমান আকাশ এবং এসআরবি-১০ ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর ফারহান।

ফরিদপুরে এনসিপি নেতার অবৈধ ওষুধ কারখানায় যৌথ বাহিনীর অভিযান। ছবি: সংগৃহীত

ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাকিব রহমান আকাশ বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আমরা এখানে বিপুল পরিমাণ ভেজাল ও ক্ষতিকর ওষুধ এবং কেমিক্যাল পেয়েছি। এসব ওষুধ তৈরিতে কোনো বৈজ্ঞানিক বা অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হতো না। জব্দ করা সমস্ত মালামাল বাজেয়াপ্ত করে বিনষ্ট করার প্রক্রিয়া চলছে।’

তিনি আরও জানান, কারখানায় পাওয়া চালান রসিদ পর্যালোচনার মাধ্যমে দেশের অন্য যেসব স্থানে এসব ওষুধ সরবরাহ করা হতো, সেগুলোতেও অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে, গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) একই এলাকার মোল্লাবাড়ি সড়কে বায়েজিদ হোসেন শাহেদের অপর একটি কারখানায় অভিযান চালিয়েছিল জেলা প্রশাসন। সে সময় অবৈধভাবে ওষুধ তৈরি ও সংরক্ষণের দায়ে তাঁকে আটক করে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। ওই অভিযানের সূত্র ধরেই এই প্রধান কারখানাটির সন্ধান পায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ফরিদপুরে এনসিপি নেতার অবৈধ ওষুধ কারখানায় যৌথ বাহিনীর অভিযান। ছবি: সংগৃহীত

অভিযুক্ত বায়েজিদ হোসেন শাহেদ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ফরিদপুর জেলা কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক পদে ছিলেন। তিনি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা।

কারাদণ্ড ও অবৈধ কারখানার খবর প্রকাশ্যে আসার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটি তাঁকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে।

সংগঠনের দপ্তর সেল থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং নীতি-আদর্শবিরোধী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশে তাঁকে দলীয় সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা এনসিপির সদস্যসচিব সাঈফ হাসান খান বলেন, ‘কেন্দ্রীয় কমিটি বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। এখন থেকে তিনি আর দলের পরিচয় ব্যবহার করতে পারবেন না। এনসিপি অপরাধীদের কোনো প্রশ্রয় দেয় না।’