ফরিদপুরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এক ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় তিন তরুণ স্বেচ্ছাসেবক ও মা-ছেলেসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন পাঁচজন। আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর মধুখালী ও ফরিদপুর সদর উপজেলায় দুর্ঘটনা দুটি ঘটে।
বেলা ৩টার দিকে মধুখালী উপজেলার আড়কান্দি সেতু-সংলগ্ন এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ছয় তরুণ স্বেচ্ছাসেবক বহনকারী একটি অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
দুর্ঘটনায় নিহত হন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ভলান্টিয়ার অব বাংলাদেশের মাগুরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং মাগুরার বুজরুক শ্রীকুণ্ডি মহাবিদ্যালয়ের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী রাব্বি মোল্যা (১৯)। নিহত অন্য দুজন হলেন সংগঠনটির সদস্য ও মাগুরা সরকারি কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নূর মোহাম্মদ আরিক (২২) এবং একই কলেজের রসায়ন বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী তামান্না তাবাসসুম ঐশী (২৫)।
নিহত তিনজনই মাগুরা পৌর সদর এলাকার বাসিন্দা।
আহত সাগর, রিয়া ও জয় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁদের মধ্যে জয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রশিক্ষণ শেষে তাঁরা অ্যাম্বুলেন্সে করে ফরিদপুর থেকে মাগুরা ফিরছিলেন।
হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আড়কান্দি সেতু-সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে ঢাকাগামী কিংফিশার পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত ছয় শিক্ষার্থী ও অ্যাম্বুলেন্সচালককে উদ্ধার করে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। সেখানে চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত তিনজনকে পাঠানো হয় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
বিকেল ৪টার দিকে একই মহাসড়কের ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের তেঁতুলতলা এলাকায় ট্রাক, বাস, প্রাইভেট কার ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের সংঘর্ষ হয়।
দুর্ঘটনায় বালুবাহী ট্রাকের চাপায় ইজিবাইকের তিন যাত্রী নিহত হন। নিহত ব্যক্তিরা হলেন মাগুরার মহম্মদপুর থানার আলোকদিয়া গ্রামের পলাশ হোসেনের স্ত্রী সুমি বেগম (৩২), তাঁর ছেলে শাওন (৭) এবং অজ্ঞাতনামা এক যুবক (৩০)।
সুমি বেগমের স্বামী পলাশ হোসেন (৩৮) গুরুতর আহত অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ফরিদপুর শহর থেকে কানাইপুরের দিকে যাচ্ছিল একটি বালুবাহী ট্রাক। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ট্রাকটির সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ট্রাকটির চাকা বিস্ফোরিত হয়ে সেটি মহাসড়কে উল্টে যায়।
এ সময় সামনে থেকে আসা একটি প্রাইভেট কার ও ব্যাটারিচালিত একটি ইজিবাইক ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে। প্রাইভেট কারটির একাংশ ট্রাকের নিচে পড়ে দুমড়েমুচড়ে যায়। ইজিবাইকটি বালু ও ট্রাকের নিচে পুরোপুরি চাপা পড়ে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ বালু সরিয়ে ইজিবাইক থেকে আহত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে। ক্রেনের সাহায্যে ট্রাক সরিয়ে প্রাইভেট কার থেকে একজনকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। সন্ধ্যায় বালুর নিচে চাপা পড়ে থাকা অজ্ঞাতনামা এক যুবককে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। হাইওয়ে পুলিশ ওই যুবককে ইজিবাইকের চালক বলে ধারণা করছে।
ফরিদপুরের করিমপুর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক আব্দুস সালাম বলেন, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহনগুলো উদ্ধার করে কানাইপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।