হোম > সারা দেশ > দিনাজপুর

মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে অযত্ন-অবহেলায় বেড়ে ওঠা ভাঁটফুল

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

অযত্নে-অবহেলায় বেড়ে ওঠা ভাঁটফুল বা বনজুঁই। ফুলবাড়ী-বড়পুকুরিয়া সড়কের বাগড়া এলাকায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

শীতের রুক্ষতা কাটতে না কাটতেই প্রকৃতি নতুন সাজে সেজে উঠতে শুরু করেছে। ফাল্গুনে গাছের পুরোনো পাতা ঝরে নতুন পাতা গজাচ্ছে। তবে সেগুলো এখনো পূর্ণ ছায়া দেওয়ার মতো পরিপক্ব হয়নি। এরই মধ্যে রোদঝলমলে দিনে গ্রামীণ সড়ক দিয়ে হাঁটলে গরম বাতাসে ধুলাবালুর গন্ধ ছাপিয়ে ভেসে আসে এক মৃদু মিষ্টি সুবাস। সড়কের ধারে তাকালেই দেখা মেলে অযত্নে-অবহেলায় বেড়ে ওঠা ভাঁটফুল বা বনজুঁই।

অযত্নে-অবহেলায় বেড়ে ওঠা ভাঁটফুল বা বনজুঁই। ফুলবাড়ী-বড়পুকুরিয়া সড়কের বাগড়া এলাকায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর, বাগড়া, ঘাটপাড়া, আলাদিপুর, কাজিহালসহ বিভিন্ন এলাকার সড়কের পাশ, ঝোপঝাড় ও পতিত জমিতে এই ভাঁটগাছ চোখে পড়ে। ধুলাবালুতে আচ্ছন্ন সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে সাদা-বেগুনি রঙের ফুল ফুটে চারপাশে ছড়াচ্ছে মুগ্ধতা। পথচারীদের মনে এনে দিচ্ছে প্রশান্তি। ফুলের মৃদু সুগন্ধে আকৃষ্ট হচ্ছে মৌমাছি ও নানা পোকামাকড়। বাণিজ্যিকভাবে চাষ না হলেও বছরের পর বছর প্রাকৃতিকভাবেই টিকে আছে এই গাছ।

এলাকাভেদে এটি ভাঁট, ভাঁটি, ভাইট, বনজুঁই বা ঘেটু নামেও পরিচিত। এটি গুল্মজাতীয় বহুবর্ষজীবী সপুষ্পক উদ্ভিদ। গ্রামবাংলার পরিচিত বুনো উদ্ভিদগুলোর মধ্যে অন্যতম। ভারত, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার অঞ্চলকে এই উদ্ভিদের আদি নিবাস হিসেবে ধরা হয়। দেশের বনবাদাড়, ঝোপঝাড়, পতিত জমি ও সড়কের পাশে এই গাছ বেশি জন্মে। সাধারণত ফাল্গুন থেকে জ্যৈষ্ঠ পর্যন্ত ফুল ফোটে।

ভাঁটগাছ সাধারণত ৬ থেকে ১৩ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। পাতার আকৃতি কিছুটা পানপাতার মতো এবং রং খসখসে সবুজ। ডালের শীর্ষে পুষ্পদণ্ডে ফুল ফোটে। পাপড়ি সাদা, যার মধ্যে হালকা বেগুনি আভা থাকে। বসন্ত থেকে গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত এই ফুলের দেখা মেলে। ফুল ফোটার পর মৌমাছিরা মধু সংগ্রহ করে।

স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠদের মতে, পরিত্যক্ত জমিতে জন্মালেও ভাঁটগাছের রয়েছে নানা ঔষধি গুণ। পাতার রস জ্বর উপশমে ব্যবহৃত হয় বলে তাঁদের দাবি। এ ছাড়া কৃমি, চুলকানি, উদরাময়, বাতব্যথা ও কিছু চর্মরোগে লোকজ চিকিৎসায় এটি ব্যবহার করা হয়। তবে অভিজ্ঞজনের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন তাঁরা।

এলাকার পুরোহিতরা জানান, বসন্তকালে ফোটা এই ভাঁটফুল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিয়ের কিছু আচারেও ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে বিয়ের সময় কনের ‘সাত পাক’ অনুষ্ঠানে এই ফুলের প্রয়োজন হয়।

ভাঁটফুলের মৃদু সৌরভ মৌমাছি, পোকামাকড় ও পিঁপড়াকে আকৃষ্ট করে। গ্রামীণ পরিবেশে শিশুদের খেলাধুলার উপকরণ হয়ে ওঠে এই ফুল। বসন্তের আগমনী বার্তা বহনকারী এই বুনো ফুল প্রকৃতির সৌন্দর্যে যোগ করে ভিন্নমাত্রা। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, অবহেলায় বেড়ে উঠলেও ভাঁটফুল গ্রামীণ প্রকৃতির এক অনন্য অলংকার।

আত্রাই নদীতে গোসলে নেমে ২ ভাইয়ের মৃত্যু

ঝরা লিচুতে টিফিনের খরচ

হাজার কোটি টাকা বাণিজ্যের সম্ভাবনা

মধ্যপাড়া পাথরখনির নতুন এমডি আমজাদ হোসেন

দিনাজপুরে এক কাপ চায়ের দামে ছাগলের চামড়া

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দিনাজপুরে ঈদুল আজহার জামাত

ধর্ষক ও আপসকারীদের শাস্তির দাবিতে ফুলবাড়ীতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

জুনের প্রথম সপ্তাহে বাজারে আসবে দিনাজপুরের রসাল লিচু

যাত্রীবাহী অটোরিকশায় ট্রাকের ধাক্কা, আগুন দিল বিক্ষুব্ধ জনতা

হাবিপ্রবিতে সংঘর্ষের ঘটনায় ৭ জনের নাম উল্লেখসহ শতাধিক আসামি করে মামলা