হোম > সারা দেশ > দিনাজপুর

দুর্গাপূজা ঘিরে ফুলবাড়ীতে নারকেলের বাজার জমজমাট, কমেছে দাম

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি 

নারকেল ও গুড়ের পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। আজ সকালে ফুলবাড়ী পৌরবাজার থেকে তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

দুর্গাপূজা সামনে রেখে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার পাড়া-মহল্লার মণ্ডপগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। একই সঙ্গে পূজার প্রসাদ তৈরি ও অতিথি আপ্যায়নের জন্য নারকেল ও গুড় কিনতে উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে ভিড় করছেন ক্রেতারা। ব্যবসায়ীদের দাবি, পর্যাপ্ত ভারতীয় নারকেল আমদানি হওয়ায় গত বছরের তুলনায় এবার দাম কিছুটা কম।

দুর্গাপূজায় দেবীর প্রসাদ তৈরির পাশাপাশি অতিথি আপ্যায়নেও নারকেলের নাড়ু, মোয়া, মুড়ি ও বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি রাখা হয়। এ কারণে পূজার আগে নারকেল ও গুড়ের চাহিদা বেড়ে যায়। উৎসবকে কেন্দ্র করে ফুলবাড়ী পৌর শহরসহ বিভিন্ন হাটবাজারে বসেছে নারকেল ও গুড়ের পসরা।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে ফুলবাড়ী পৌরবাজার ঘুরে দেখা যায়, নারকেল ও গুড় সাজিয়ে বসেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। সকাল থেকেই দোকানগুলোতে ভিড় করছেন ক্রেতারা। আকারভেদে প্রতি জোড়া নারকেল বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২৩০ টাকায়। ভারতীয় নারকেলের জোড়া মিলছে ১৮০ টাকায়। সে হিসাবে প্রতি পিস নারকেলের দাম পড়ছে ৮০ থেকে ১১৫ টাকা। গত বছর আকারভেদে এক জোড়া নারকেলের দাম ছিল ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা। অন্যদিকে, নাড়ু তৈরির প্রধান উপকরণ গুড় বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১১০ থেকে ১২০ টাকায়।

নারকেল ও গুড়ের পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। আজ সকালে ফুলবাড়ী পৌরবাজার থেকে তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

ব্যবসায়ীরা জানান, এবার ভারতীয় নারকেল পর্যাপ্ত পরিমাণে আমদানি হওয়ায় গত বছরের তুলনায় দাম কমেছে।

ফুলবাড়ী বাজারে নারকেল কিনতে আসা অরুণ চন্দ্র সাহা বলেন, ‘পূজা উপলক্ষে দুই জোড়া নারিকেল কিনেছি ৩২০ টাকায়। দুই কেজি গুড় নিয়েছি ২৪০ টাকায়। গতবারের তুলনায় এবার দাম কিছুটা কম।’

পার্বতীপুর উপজেলার ভবানীপুর এলাকার বাসিন্দা অর্পণা রানী ও জ্যোৎস্না রানীও নারকেল কিনতে এসেছিলেন ফুলবাড়ী বাজারে। তাঁদের দুজনেরই বয়স প্রায় ৬০ বছর। তাঁরা বলেন, ‘আশ্বিন-কার্তিক মাসে সংসারে অভাব থাকে। আমরা গরিব মানুষ। যত অভাবই থাকুক, মা দুর্গার পূজায় ফলমূল, মোয়া, নাড়ু ও নারকেল দিতে হয়। কষ্ট হলেও কিনতে হয়। আমাদের কেউ সাহায্য করে না। তাই নারকেল ও গুড় কিনতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হয়। তবু চারটি নারকেল ও দুই কেজি গুড় কিনেছি। বাড়িতে বাচ্চারা আছে, অতিথি এলে তাঁদেরও আপ্যায়ন করতে হবে।’

পৌরবাজারের কেন্দ্রীয় কালীমন্দির-সংলগ্ন এলাকার নারকেল বিক্রেতা রহিদুল ইসলাম ও মফিজুল ইসলাম বলেন, পূজা উপলক্ষে তাঁরা নারকেল মজুত করেছেন। ভারতীয় নারকেল আমদানি বেড়ে যাওয়ায় এবার দাম কিছুটা কম। তবে তাঁদের ভাষ্য, দেশি নারকেল আকারে বড় ও তুলনামূলক বেশি মিষ্টি। অন্যদিকে, ভারতীয় নারিকেল আকারে ছোট হলেও এর শাঁস পুরু।

বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ, ফুলবাড়ী উপজেলা শাখার আহ্বায়ক আনন্দ কুমার গুপ্ত বলেন, এ বছর উপজেলায় ৬১টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিমা তৈরি ও মণ্ডপ সাজানোর কাজ প্রায় শেষ। প্রতিটি মন্দিরে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পূজার প্রস্তুতি চলছে। সব মণ্ডপের সার্বিক খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। সুশৃঙ্খল ও আনন্দঘন পরিবেশে পূজা সম্পন্ন হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।