এবারের অমর একুশে বইমেলায় ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। মেলাকে ‘পলিথিনমুক্ত’ ঘোষণা করা হয়েছে। পলিথিন ব্যাগের বিকল্প হিসেবে পুনর্ব্যবহারযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব উপকরণ দিয়ে প্রস্তুত ব্যাগ ব্যবহার করা হবে। এবারের বইমেলার প্রতিপাদ্য—বহুমাত্রিক বাংলাদেশ।
আজ মঙ্গলবার বাংলা একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বইমেলা নিয়ে মতবিনিময়ের সময় সাংবাদিকদের এসব জানান।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রতিষ্ঠান স্টল দেবে। মোট ইউনিট বরাদ্দ করা হয়েছে ১ হাজার ১৮ টি। লিটল ম্যাগাজিন চত্বর হবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চের কাছাকাছি গাছতলায়। সেখানে প্রায় ৮৭টি লিটলম্যাগকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শিশু চত্বরে মোট প্রতিষ্ঠান থাকছে ৬৩টি।
এ সময় জানানো হয়, বইমেলাকে পরিবেশ রক্ষার দৃষ্টিকোণ থেকে ‘জিরো ওয়েস্ট’ (শূন্য বর্জ্য) মেলায় পরিণত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ কারণেই এবার মেলা থাকবে পলিথিনমুক্ত। এই লক্ষ্যে সব স্টল, দোকান, মঞ্চ, ব্যানার, প্রচারপত্র, ফাস্ট ফুড, কফি শপ, খাবারের দোকান ইত্যাদি প্রস্তুতে পুনর্ব্যবহারযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব উপকরণ, যেমন পাট, কাপড়, কাগজ ইত্যাদি ব্যবহার করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বইমেলা ২৬ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) থেকে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে। তবে প্রথম দিন প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতার জন্য সাধারণের প্রবেশাধিকার থাকবে একটু পরে।
বইমেলা পরিচালনা কমিটি সূত্র জানিয়েছে, বেলা ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠান চলবে। তা শেষ হওয়ার পরে প্রধানমন্ত্রী মেলা ঘুরে দেখে চলে যাওয়ার পরে আনুমানিক ৪টার দিকে সাধারণ মানুষ ঢুকতে পারবে। ছুটির দিন বইমেলা চলবে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।
প্রতিদিন বেলা ৩টায় বইমেলার মূল মঞ্চে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার এবং ৪টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকবে। প্রতি শুক্র ও শনিবার বেলা ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত হবে মেলার ‘শিশুপ্রহর’। অমর একুশে উদ্যাপনের অংশ হিসেবে শিশুকিশোর চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি এবং সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকবে মেলায়। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাও থাকবে। এবার মেলা রমজানে হওয়ায় মেলায় আসা মুসল্লিদের জন্য সুরা তারাবি নামাজের ব্যবস্থা থাকবে।
বইমেলায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো শতকরা ২৫ ভাগ কমিশনে বই বিক্রি করবে। আয়োজক বাংলা একাডেমির নিজেদের বই ও পত্রপত্রিকা বিক্রির ব্যবস্থা থাকবে মেলার দুই অংশেই।